https://asia24.tv


ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো ছবি: -সংগৃহীত
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করবেন বলে দাবি করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। টেলিগ্রাফ স্পোর্টসের বরাতে জানা যায়, ফিফার টুর্নামেন্ট ও বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০ বিলিয়ন ডলারে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ সফল করতে সহায়তার জন্য ইনফান্তিনোর ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সন্তুষ্ট। প্রেসিডেন্ট তাকে পদচ্যুত হতে দেবেন না এবং তাকে রক্ষা করতে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবেন না। ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বেশ শক্ত। ২০১৮ সালে তাদের প্রথম বৈঠকেই কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ এবং একটি বিশেষ স্মারক ট্রফি প্রদান করেন। তবে নিউইয়র্ক পোস্টের মতে, সাম্প্রতিক সংকটে ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্পও জানান, বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি।
এদিকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকে ইনফান্তিনোকে সরাতে একজোট হচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো। ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এই বৈশ্বিক জোট গঠনের মূলে রয়েছে। এফএ সোমবার ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের পূর্ববর্তী সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, নরওয়ে ও সুইডেনের পাশাপাশি ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএডব্লিউ) ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের জন্য ইনফান্তিনোর প্রার্থিতার সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। সংস্থাটির মতে, সুশাসন, বিচক্ষণতা ও অংশীজন ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্ব দেওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।
বর্তমানে উয়েফা সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদেশগুলো আফ্রিকা ও এশিয়ার সমর্থন আদায়ে তৎপর রয়েছে। আফ্রিকা (সিএএফ) এবং এশিয়ার (এএফসি) অধীনে প্রায় ১০০টি ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্য রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই দুই অঞ্চলের কোনো দেশ প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেনি; বরং মরক্কো, কাতার, শ্রীলঙ্কা ও লেবাননের মতো ফুটবল কর্তৃপক্ষ তার প্রতি সরাসরি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ফিফার জরুরি বৈঠকে ইংল্যান্ডের এফএ চেয়ারম্যান ডেবি হিউইটসহ ফিফা কাউন্সিলের অন্য সদস্যরা জানান, তারা ২০ বিলিয়ন ডলারের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এরপর উয়েফার তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। উয়েফা হুমকি দেয় যে, এ ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি বাস্তবায়ন করা হলে তাদের ৫৫টি সদস্য রাষ্ট্র ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কট করবে। এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন ফিফা প্রধান।
বিদ্রোহের ধাক্কা সামলাতে ইনফান্তিনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠলেও ফিফা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তা অস্বীকার করেছে। তবে ইনফান্তিনোবিরোধী জোটের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন সময়। কারণ, ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হলে অন্তত তিন মাস আগে নোটিশ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। বিশ্ব ফুটবলে এখন এক নতুন অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


