https://asia24.tv


সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: -সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের বিপুল তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিটি নাগরিক যদি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা নিজের ব্যবহৃত বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে ব্যয় করেন, তবে খুব দ্রুততার সঙ্গেই দেশের সার্বিক পরিবেশের এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত ৩ মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সাধারণ নাগরিক ও তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “প্রতি সপ্তাহে আপনি যদি আপনার নিজের বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা বা প্রতিষ্ঠান—যেখানেই কাজ বা লেখাপড়া করেন না কেন, সেখানে মাত্র একটি ঘণ্টা সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যয় করেন, তবে অতি দ্রুত আমরা গোটা পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন করতে সক্ষম হব।”
দেশের অদম্য যুবশক্তির এক বিশাল পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে স্কাউটসের সদস্যসংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সদস্যসংখ্যা ২২ হাজারেরও বেশি। এর পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা মিলিয়ে দেশে শিক্ষার্থীদের মোট সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এই বিশাল ছাত্র ও যুবসমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করে, তবে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রযাত্রাকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না।
ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তরুণ সমাজকে সরাসরি দেশ পুনর্গঠনের মূল দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি বলেন, তরুণ সমাজ কীভাবে সমাজের রূপান্তর ঘটাতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিশ্ববাসীর সামনে তারা প্রমাণ করে দিয়েছে। পরিবর্তনের সেই ঐতিহাসিক সূচনা সেখান থেকেই হয়েছে, এখন সময় এসেছে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের।
আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে কাজ করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে হয়তো শতভাগ সাফল্য অর্জন কঠিন হতে পারে, কিন্তু সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অন্তত ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধান করা নিশ্চিতভাবেই সম্ভব। ডেঙ্গুর মূল উৎস ধ্বংসের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা প্লাস্টিক পাত্র, ভাঙাচোরা বোতল কিংবা টবে পানি জমে থেকেই এডিস মশার ক্ষতিকর লার্ভা জন্ম নেয়। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আত্মতুষ্টির মানসিকতা পরিহার করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মনে করেন তিনি নিরাপদ দূরত্বে আছেন বা ডেঙ্গু তাঁকে স্পর্শ করবে না, তবে তিনি ভুল ভাবছেন। কারণ অসচেতনতার কারণে নিজের অজান্তেই যেকোনো প্রিয়জন বা পরিবারের সদস্য ডেঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও গোটা দেশকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।
রাস্তাঘাট ও প্রকাশ্য স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কুঅভ্যাস বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পরিবেশ নোংরা করে, তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং প্রকাশ্যে বলতে হবে যাতে তারা পরিবেশ দূষিত না করে। কোটি কোটি তরুণ ও শিক্ষার্থী সচেতন হলে পুরো দেশের চেহারা বদলে ফেলা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
উল্লেখ্য, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী এই দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে অব্যাহত থাকবে।


