ঢাকা
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertise with us

চট্টগ্রামে নতুন পানি মডেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৫ বার পঠিত
চট্টগ্রামে নতুন পানি মডেল

ছবি: -সংগৃহীত

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের তীব্র বিশুদ্ধ পানি সংকট কাটাতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ও উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের শুভসূচনা করা হয়েছে। নগরীর সুবিধা-বঞ্চিত মানুষের হাতের নাগালে মানসম্মত সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে পতেঙ্গার দুটি ওয়ার্ডকে প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য পানিসংকটপ্রবণ এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হবে।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের অভিজাত হোটেল রেডিসন ব্লু-র সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই নতুন ধারার ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীন আগামী তিন বছর চট্টগ্রাম ওয়াসা, উন্নয়ন সংস্থা ‘ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ এবং সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড’ একসঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। পুরো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সার্বিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা জোগাচ্ছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নগরবাসীর দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানোর মতো মৌলিক দায়িত্ব পালনে সরকার সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তবে আধুনিক অর্থনীতির বিশাল চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে সরকারের একক অর্থায়নের প্রচলিত ধারার বদলে এখন টেকসই পিপিপি মডেল গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, শুধু অবকাঠামো তৈরি করাই শেষ কথা নয়, প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। এই নতুন যৌথ মডেলে সরকার, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর যৌথ অংশগ্রহণের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। এর পাশাপাশি বর্ষাকালে চট্টগ্রামের চিরাচরিত জলাবদ্ধতা ও পানিনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানেও ডাচ সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে চুক্তিতে সই করেন। স্থানীয় নাগরিকদের সুপেয় পানির চাহিদার বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরেন প্রতিনিধি ইসরাফিল খসরু।

প্রকল্পের প্রারম্ভিক কার্যক্রম হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে (উত্তর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা) নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত একটি বিস্তারিত জরিপে দেখা যায়, পতেঙ্গার এই দুটি ওয়ার্ডে বসবাসকারী প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার মানুষের মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ অধিবাসী ওয়াসার বৈধ সংযোগ সুবিধার আওতায় রয়েছেন। অধিকাংশ সাধারণ মানুষকে তাদের দৈনন্দিন খাবার পানির জন্য বেসরকারি বিক্রেতা বা ভেন্ডরদের ওপর নির্ভর করতে হয়, যেখানে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য দিয়ে অপরিশোধিত পানি কিনতে বাধ্য হন তারা।

শুধু তাই নয়, পতেঙ্গা উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানকার ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততার হার নির্ধারিত নিরাপদ মাত্রার (১ হাজার পিপিএম) তুলনায় প্রায় তিনগুণ বা ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম মারাত্মক। সব সংকট বিবেচনায় নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পানি সরবরাহ কাঠামো দাঁড় করাতেই এই পিপিপি মডেলের গোড়াপত্তন করা হলো, যা ভবিষ্যতে সারা দেশের পানি ব্যবস্থাপনা খাতের জন্য একটি দিকনির্দেশক মডেল হিসেবে কাজ করবে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa