https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে জমা হওয়া নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। অবিবেচনাপ্রসূত পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চরম বাজেট ঘাটতির মুখে পড়া নতুন নির্বাচিত বিএনপি সরকার টাকা ছাপানোর মতো আত্মঘাতী পথ বেছে নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
কারণ, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে হলে বাড়তি প্রয়োজন হবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটের মুখে অর্থ সংস্থানের বিকল্প না পেয়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নে শেষ পর্যন্ত ‘টাকা ছাপাতে’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থ ও প্রশাসনিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ছাড়া নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে এভাবে বাজারে বিপুল নতুন টাকা ছাড়লে দেশে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিতে পারে—যার মাশুল গুনতে হবে সাধারণ জনগণকেই।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। আগের বেতন কাঠামোর বিপরীতে নতুন পে-স্কেল ও পেনশন মেটাতে সরকারি ব্যয় একলাফে ১৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে। এতে মোট বাজেটের আকার ১০ লাখ কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়ে যাবে। দীর্ঘদিনের লাগামহীন দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষতের কারণে সৃষ্ট এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে রাজস্ব বাড়ানোর ব্যবস্থা না করে বিকল্প হিসেবে পে-স্কেল বাস্তবায়নে ‘টাকা ছাপানো’র কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন কোনো উৎপাদনশীল খাত ছাড়া কেবল বাজেট ঘাটতি বা সরকারি পরিচালনা ব্যয় মেটাতে টাকা ছাপায় (মানিটাইজেশন), তখন বাজারে ‘হাই-পাওয়ার্ড মানি’ বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত মুদ্রা বাজারে পণ্যের সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মূল্যস্ফীতিতে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আগেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এমন সংকটের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন টাকা ছাপিয়ে বেতন ভাতা দিলে বাজারে টাকার সংস্থান বাড়লেও পণ্যের দরদাম আকাশচুম্বী হবে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের সামান্য বেতন বৃদ্ধি পেলেও মুদ্রাস্ফীতির কড়া চাবুকে ধসে পড়বে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের সাধারণ মানুষ।
যদিও ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান অবস্থায় কৃচ্ছ্রসাধন না করে এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব দূর করার পথ না খুঁজে কেবল আমলাতোষণ ও অর্থনৈতিক ভুল নীতির পথ ধরে এগোলে দেশ এক দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির চক্রে আটকা পড়বে।


