https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
দেশে গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষা দিতে সব ধরনের গণপরিবহনকে শতভাগ তামাকমুক্ত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা। একই সঙ্গে গণপরিবহনে প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক ‘ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর কেন্দ্রীয় সভাকক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যেগে আয়োজিত ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একটি সুস্থ ও টেকসই ধূমপানমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। চালকদের মানসিকতা পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের কৌশলগত সহায়তায় ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি পেশাদার গণপরিবহন চালককে তামাকবিরোধী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ যাত্রী, নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিআরটিএর এই প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস)-এর উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ সরাসরি ধূমপায়ী। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, দেশে ধূমপান না করেও প্রায় ৪ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের স্বীকার হয়ে কঠিন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে দেশের পাবলিক পরিবহনে এই পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম এক হুমকি।
প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, গণপরিবহনে চালক ও হেলপারদের যথেচ্ছ ধূমপানের কারণে বিষাক্ত ধোঁয়ার পরোক্ষ শিকার হন নিরীহ যাত্রীরা, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী নারী ও কোমলমতি শিশুরা। ফলে নিজেরা ধূমপান না করেও তারা ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এই বিপর্যয় রুখতে সভায় বিআরটিএ কার্যালয় ও বাস-মিনিবাস তামাকমুক্ত রাখতে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত সুপারিশ পেশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিআরটিএর সব আঞ্চলিক ও বিভাগীয় কার্যালয়সহ গণপরিবহনে দৃশ্যমান স্থানে আইন অনুযায়ী ‘ধূমপান নিষিদ্ধ’ বিজ্ঞপ্তি সাঁটানো; পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও ড্রাইভারদের নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বিআরটিএর ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী সতর্কবার্তা স্পষ্ট অক্ষরে মুদ্রণ করা এবং আইনে নির্ধারিত জরিমানা বাস্তবায়নে বিআরটিএর মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জোর দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটিএফকের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাহিন মালিক। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি ড. এস এম খলিলুর রহমান। এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান এবং বিআরটিএর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।


