https://asia24.tv


রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক জমকালো ও ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের শপথ গ্রহণ করেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রবীণ রাজনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীত ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথগ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার শপথনামায় নিজ নিজ স্বাক্ষর করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পান ৮৮ ভোট। বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার পরদিনই তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পূর্বে ৭৮ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের দীর্ঘমেয়াদি মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণকারী মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭২ সালে তিনি ঢাকা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ত্যাগ করে তিনি মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে তিনি দলের নির্বাহী কমিটি, কৃষক দল এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। দীর্ঘ পথচলার পর এবার তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন।


