https://asia24.tv


৫শ টাকা মজুরির দাবিতে চা শ্রমিকদের মশাল মিছিল। ছবি: -সংগৃহীত
দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবিতে আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) থেকে সিলেটের সব চা বাগানে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত চা শ্রমিক নেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরের মালনীছড়া চা বাগান এলাকায় এক মশাল মিছিল ও সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। শ্রমিকদের বাকি দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গেজেট-২০২৩’ বাতিল, দ্রুত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (বাচাশ্রই) নির্বাচন আয়োজন এবং চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার সুনিশ্চিত করা।
ভারী বৃষ্টির মধ্যেই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মালনীছড়া চা বাগান থেকে মশাল মিছিলটি বের হয়ে রেস্ট ক্যাম্প বাজার ও লাক্কাতুরা এলাকা পরিক্রমণ করে। পরে রেস্ট ক্যাম্প বাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আন্দোলনকারী নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক বলেন, বর্তমানে একজন চা শ্রমিক দিনে মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরি পান, যা দিয়ে বর্তমান বাজারে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনাতম খাদ্যসামগ্রী কেনাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের গবেষণা তুলে ধরে জানান, ১০ ঘণ্টা কঠোর দৈহিক পরিশ্রমে একজন পুরুষ শ্রমিকের ৩,৪৬৪ কিলোক্যালরি ও নারী শ্রমিকের ২,৪০৬ কিলোক্যালরি শক্তি ক্ষয় হয়। শুধু খাবারের সংস্থান করতেই দিনে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা প্রয়োজন, যার সাথে শিক্ষা, চিকিৎসা ও বস্ত্রের খরচ যুক্ত রয়েছে। ফলে ৫০০ টাকা মজুরির দাবি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বেঁচে থাকার ন্যূনাতম অধিকার।
চা শ্রমিক ঐক্যের উপদেষ্টা সঞ্জয় দাস উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সালের গেজেটে ১৭০ টাকা মূল মজুরির সাথে ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির কথা বলা হলেও পরোক্ষভাবে বোনাস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত শ্রম আইনের ১৩৯(৬) ধারা অনুযায়ী গত ১০ আগস্ট নতুন মজুরি কাঠামোর সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা থাকলেও বিতর্কিত ‘গেজেট-২০২৩’ এখনো বাতিল করা হয়নি।
সঞ্জয় দাস অবিলম্বে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি নির্ধারণ, সেই সাথে গেজেট বাতিল, ইউনিয়নের নির্বাচন এবং ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চার দফা দাবিতে আজ থেকে প্রতিদিন দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে রাজপথ অবরোধ ও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের মতো আরও কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।


