ট্রাফিক আইন অমান্য করে জরিমানা গুনেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। নিজের সরকারি গাড়ি উল্টো পথে চলায় দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি প্রকাশ্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে দেশে আইনের শাসনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রবেশদ্বারে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বক্তব্য দেন। মন্ত্রী জানান, সকালে সার্কিট হাউজ সড়কে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের বিপরীত পাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। এ সময় ফাঁকা জায়গা পেয়ে তার চালক গাড়িটি ঘুরিয়ে ডিভাইডারের অন্য পাশে নিয়ে যান, যা ট্রাফিক নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। চালক এই সিদ্ধান্ত নিলেও গাড়িতে সওয়ার থাকা অবস্থায় ঘটে যাওয়া এই ভুলের দায় নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল বৃহস্পতিবার সকালে। সার্কিট হাউজ রোডে উল্টো দিক দিয়ে গাড়ি পরিচালনার অপরাধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক শাখা মন্ত্রীর গাড়ি ও চালককে অভিযুক্ত করে মামলা দেয় এবং জরিমানা নির্ধারণ করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের এই তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক এই ধরনের শাস্তিমূলক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রমাণ করে যে দেশে আইনের প্রয়োগ কোনো নাম সর্বস্ব বিষয় নয়। একজন সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে যেসব আইনি নিয়ম প্রযোজ্য, দেশের একজন মন্ত্রী বা নীতি-নির্ধারকের ক্ষেত্রেও ঠিক সমান নিয়মই খাটে। এতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ সরকারি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আইন ভাঙার স্পর্ধা দেখাবে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে বিমানমন্ত্রী বলেন, এই সরকার সুশাসন জোরদার করা এবং সমতার ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো অজুহাতেই হোক না কেন, মন্ত্রী বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়মবহির্ভূত সুবিধা নেওয়ার সুযোগ এখানে নেই। সরকারি পদমর্যাদা বা সামাজিক অবস্থানের তোয়াক্কা না করে আইনের সঠিক প্রয়োগ চালুর যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, তাতে তিনি নিজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।





মন্তব্য করুন