https://asia24.tv


কানাডার মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ জন গবেষক যোগ দিয়েছেন। ছবি: নাসুনা স্টুয়ার্ট-উলিন/দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ছবি: -প্রতিনিধি
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর নীতি, স্বাধীনতা খর্ব ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার জেরে মার্কিন একাডেমিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী হার্ভার্ড, ইয়েল ও এমআইটির মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ গবেষক ও বিজ্ঞানী স্থায়ীভাবে পাড়ি জমিয়েছেন প্রতিবেশী কানাডায়।
বৃহস্পতিবার কানাডার ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ৬৪ জন বিশ্বখ্যাত নতুন গবেষক নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এই তালিকায় থাকা গবেষকদের একটি সিংহভাগ অংশ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো ত্যাগ করে আসছেন। বাকিরা ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কানাডায় যোগ দিচ্ছেন।
কানাডা সরকার তাদের কৌশলগত গবেষণার মান বাড়াতে ৫০ কোটি কানাডীয় ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্বসেরা মেধাগুলোকে আকর্ষণের এই মেগা উদ্যোগটি অর্থায়ন করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্ভাবনী খাতে কানাডার ১২০ কোটি ডলারের যে বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে, এটি তারই অংশ। আগামী বছর দ্বিতীয় ধাপে আরও ৬৩ জন বিশ্বমানের গবেষককে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কানাডা সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতার আসার পর থেকে বিদেশি শিক্ষার্থী, মুক্ত চিন্তা, গবেষণার স্বায়ত্তশাসন ও সরকারি অনুদান বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত নেতিবাচক পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে কানাডা তাদের মেধা সংগ্রহের বাজার উন্মুক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরএনএ থেরাপিউটিকস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ফিলিপ জামোরে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী পদ ছেড়ে মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর সাথে ম্যাকগিল আরও পাঁচজন নামকরা গবেষককে নিয়ে এসেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে জামোরে বলেন, ‘আমি এমন একটি দেশে বাস করতাম, যাকে বিশ্বের মধ্যে বিজ্ঞানের বিকাশে সবচেয়ে সেরা মনে করা হতো। কিন্তু হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলাম সেই সত্য আর নেই। বিজ্ঞানীরা যদি সত্য ও প্রগতির পক্ষে না দাঁড়ান, তবে সমাজ থমকে যাবে।’
একইভাবে মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ ছেড়ে অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন পুষ্টিবিজ্ঞানী কেভিন হল। প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়ে তাঁর গবেষণায় ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ ও সেন্সরশিপ আরোপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। অন্যদিকে গবেষণা তহবিলের চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সেথ গুইকেমা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন।
কানাডার এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ‘সবচেয়ে বড় মেধা আকর্ষণ অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি। তিনি বলেন, ‘যখন বৈশ্বিক কিছু ক্ষমতাশীল দেশ বিজ্ঞানের বাজেট ছাঁটাই করছে এবং একাডেমিক স্বাধীনতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, ঠিক তখনই কানাডা বিজ্ঞানে বিনিয়োগ ও গবেষণায় মনোযোগ দ্বিগুণ বাড়াল।’
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ও এমআইটির খ্যাতনামা কানাডীয় জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী সারা সিগারসহ ছয়জন শীর্ষ বিজ্ঞানীকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বৈরী নীতির কারণে অনেক মার্কিন বিজ্ঞানীর কাছে এখন প্রধান আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে কানাডা। একই সময়ে কানাডীয় বংশোদ্ভূতদের জন্য নাগরিকত্ব সুবিধা শিথিল করার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার গবেষক ও নাগরিক আবেদন জমা দিচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি


