https://asia24.tv


অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর চিপসহ উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর ও কৌশলগত শিল্পে বিনিয়োগের জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক ও ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন খাতের পাশাপাশি এখন সময় এসেছে উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পে মনোযোগ দেওয়ার।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়ায় প্রস্তাবিত ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও অবকাঠামো নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বিস্তৃত এই প্রকল্পের কাজ চালু হলো।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু বিনিয়োগ চাই না; প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে এই বিনিয়োগই হবে প্রধান চালিকাশক্তি।’ তিনি জানান, বিনিয়োগ সহজ করতে শিগগিরই ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালু করা হচ্ছে এবং মূলধন ও মুনাফা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চীন কেবল উন্নয়ন অংশীদার নয়, এখন কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হয়েছে। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে মাত্র ৫ মাসে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রকল্পটিকে দুই দেশের সহযোগিতার ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ১১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান স্থানটি পরিদর্শন করেছে এবং ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে, যা ১ লাখের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এখানে ইভি, ব্যাটারি ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প গড়ে উঠবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে সমঝোতা স্মারক সই ও জমি অধিগ্রহণ হলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় এটি আটকে ছিল। পরবর্তীতে চীনের ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসির) সঙ্গে বেজার যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পে গতি ফেরে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং একনেকে ৪,১৮৯ কোটি টাকার সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প অনুমোদনের পর কাজের গতি বৃদ্ধি পায়। ২০৩১ সালের মধ্যে জেটি, সিইটিপি, বিদ্যুৎ-গ্যাস লাইন ও সড়কসহ পূর্ণাঙ্গ প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


