https://asia24.tv


বন্যা। ছবি: -ফাইল ছবি
উজান থেকে আসা আশঙ্কজনক পাহাড়ি ঢল এবং লাগাতার ভারী বর্ষণে নীলফামারীর তিস্তা নদীতে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার পর নামতে শুরু করলেও নদী অববাহিকায় স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। পানির স্তর কমতেই লোকালয় ও ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাাউবো) সূত্রে জানা যায়, উজানের ঢলে তিস্তার পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা ও চরাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হয়। পরে পানি নামলেও ডোমার ও জলঢাকা উপজলার আটটি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। নদী রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ফাটল ধরে ধসে গেছে, ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ডুবে যাওয়া সবজি ও বাদাম ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগসহ ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও সোমেশ্বরীসহ প্রধান নদনদীর পানি নতুন করে বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর ও নেত্রকোনার নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের আটটি বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের বন্যা ও ভাঙন সংকট আরও জটিল রূপ নিতে পারে।


