https://asia24.tv


বুড়িগঙ্গা। ছবি: -সংগৃহীত
ঐতিহাসিক বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে জমে থাকা প্লাস্টিকসহ সব ধরনের ক্ষতিকর বর্জ্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণ নিশ্চিত করে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
রাজধানীর প্রাণপ্রবাহ বুড়িগঙ্গা নদীর পরিবেশ দূষণ রোধে ২০১০ সালে হাইকোর্টের দেওয়া বেশ কয়েকটি মৌলিক নির্দেশনা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও নদীর পাড়ে অসাধু উপায়ে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক ও ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলার বিষয়টি নতুন একটি রিটের মাধ্যমে সরাসরি আদালতের নজরে আনা হয়।
আদালতের এই নতুন নির্দেশনায় নৌপরিবহন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং বুড়িগঙ্গা সংলগ্ন লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে নদীর বর্জ্য সরানোর আদেশ বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
পরিবেশবাদী মানবধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে আইনজীবী মো. সরওয়ার আহাদ চৌধুরী গত ৩০ আগস্ট রিট আবেদনটি দায়ের করেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিশদ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আলোকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, যেখানে বুড়িগঙ্গার তীরে ফেলা শত শত টন প্লাস্টিক বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিত আবর্জনার সচিত্র পরিবেশগত ভয়াবহতা উঠে এসেছিল।
রিট আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, উপকূলীয় ও নদীতীরে নির্বিচারে বর্জ্য ফেলার অনৈতিক প্রবণতা দ্রুত বন্ধ করা না গেলে হালকা বর্ষণ বা জোয়ারের পানিতে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য সরাসরি নদীর মূল স্রোতে মিশে যাবে। এতে করে নদীর পানি ভয়াবহ মাত্রায় বিষাক্ত ও দূষিত হবে, যা বিগত এক দশকে বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নেওয়া সরকারের সব পরিবেশগত উদ্যোগ ও আইনি রূপরেখাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেবে।
আদালতে পরিবেশবাদী রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তাঁকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসরিন সুলতানা। অপরদিকে রাষ্ট্রীয় আইনি পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ সাংবাদিকদের জানান, বুড়িগঙ্গার অব্যাহত বিষাক্ত দূষণ সমগ্র ঢাকা শহরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলায় নদীতীরে যেভাবে উন্মুক্ত বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে, তা পরিবেশ আইনের চরম লঙ্ঘন। দ্রুত বর্জ্য না সরালে বুড়িগঙ্গার অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেই বিচারিক এই অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করা হয়েছে।


