ঢাকা
১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
বন্যায় ৭ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, নিহত ৫১ চার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সেমিফাইনাল, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষে টানা ভারী বর্ষণে রাজধানীর বেশ কিছু নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে আমরা জানতাম এটা হবে প্রচণ্ড তীব্রতার একটা ম্যাচ : মেসি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে রোহিঙ্গারাদের ‘মারাত্মক ডায়রিয়া’ সৃষ্টিকারী পরজীবীর প্রাদুর্ভাব যুক্তরাষ্ট্রে উইম্বলডনের নতুন রানি লিন্ডা নোসকোভা কুটনৈতিক তৎপরতা চলছে পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ ব্যাখ্যা করল মার্কিন দূতাবাস ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই
Advertise with us

বন্যায় ৭ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, নিহত ৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬   ৭ বার পঠিত
বন্যায় ৭ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, নিহত ৫১

ছবি: -সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন। ১২ জুলাই (রোববার) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাত জেলা হলো—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম। জেলার ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার। জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ অবস্থান করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী ৩৯ হাজার ৫০৬ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা মিলে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে; যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪ জন, তাঁদের মধ্যেও পাঁচজন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বান্দরবানে সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে পানিবন্দী হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫০০। সেখানে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন দুজন। ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৬ হাজার ২৫০ জন।

রাঙামাটিতে নয়টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী ১ হাজার ৪৪টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৪। সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ১ হাজার ৭৩টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪১৭। সেখানে একজন আহত হয়েছেন। জেলার ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে
৭ হাজার ৩০৮ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫৪৪। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ৬ হাজার ৪৪৪ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৮ হাজার ১৪০। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে এখনো কেউ আশ্রয় নেননি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলার জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa