https://asia24.tv


চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: -সংগৃহীত
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের গৃহিণী বা মায়েদের হাতে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চালুকৃত এ কার্ডের মাধ্যমে কেবল চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলারই ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ সুবিধার আওতায় আসবে।
রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। গত মাসে বন্যাপীড়িত পরিবারগুলোর সার্বিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ সমাবেশের আয়োজন করে।
জনসভায় সামাজিক নিরাপত্তার ব্যাপ্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যে অগ্রাধিকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মূল কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প। চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে দেশজুড়ে গণহারে নিবন্ধিত পরিবারগুলোর প্রধান নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মূল অভিযাত্রা শুরু হবে। প্রান্তিক মা-বোনদের সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য অতিদ্রুত ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন তিনি। বিশেষত উপকূলীয় প্রান্তিক লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে শিগগিরই নতুন বাজারমূল্য নির্ধারণের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণ চাষীদের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত জোয়ার আনবে।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, একটি দায়িত্বশীল ও নির্বাচিত সরকারের মূল কাজই হলো সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো। সন্তানদের শিক্ষা, অসুস্থদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং নারী ও তরুণদের বিপুল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বিএনপির মূল লক্ষ্য। বাঁশখালীসহ সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর ৫০ শয্যার অবকাঠামোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মাস্টারপ্ল্যানও প্রকাশ করেন তিনি।
জনসভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপপ্রচারকারীদের বিষয়ে জনসাধারণকে অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, অর্ধশতক আগে স্বাধীন হওয়া এ বাংলাদেশকে আর পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। অতীতের অশুভ বিভ্রান্তি ছড়ানো গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে শিগগিরই বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ ১০ বছর মেয়াদি সমন্বিত উন্নয়ন রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। বিরোধী দলগুলোর গঠনমূলক প্রস্তাব থাকলে তা জনসমক্ষে পেশ করার আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি দেশে অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা না সৃষ্টি করার অনুরোধ করেন।
বিগত স্বৈরাচারী শাসনের শাসনামলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তির স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ভগ্নদশা কাটিয়ে বাসাবাড়ি, শিল্প কারখানা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ এবং যানবাহন খাতে গ্যাসের সহনীয় সরবরাহ ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রথম প্রাধান্য।
মাতারবাড়ী, মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে ওঠার অপার সম্ভাবনার তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের ফলে স্থানীয় হাজার হাজার বেকারের জন্য স্থায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে অর্থ ও স্বরাষ্ট্রের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্ব থাকায় এ এলাকার গতিশীল উন্নয়ন কেউ ব্যাহত করতে পারবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। একইসঙ্গে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সুসংগঠিত কর্মশক্তিতে রূপান্তরের এক সুদূরপ্রসারী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাঁশখালী মাঠের এ বিশাল গণসমাবেশে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। জনসভায় যোগদানের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী বাহারছড়া গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের হাতে নতুন নির্মিত বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন, আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিবারটির কাছে গৃহপালিত হাঁস-মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সোপর্দ করেন।


