https://asia24.tv


সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ। ছবি: -ফাইল ছবি
রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচিতে সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংক্রান্ত মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে দ্রুত হস্তান্তরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের ‘ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো’ বা এনসিবি-কে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও চিঠি প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আত্মগোপনে বা বিদেশে অবস্থানরত এই প্রভাবশালী আসামিকে নিজ দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতেই ইন্টারপোলের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে গত জুলাই মাসে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের সেই আলোচিত ঘটনায় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি-২) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাংবাদিকসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেন। ট্রাইব্যুনাল সেসময় অভিযোগপত্র পর্যালোচনার পর আজিজ আহমেদসহ আত্মগোপনে থাকা মোট ৩১ জনের নামে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে আরও জানানো হয়, শুধু জেনারেল আজিজ নন, একই হত্যা মামলার অভিযুক্ত অপর গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদকেও আন্তর্জাতিক নজরদারির আওতায় এনে গ্রেপ্তারের জন্য এর আগেই এনসিবির মাধ্যমে রেড নোটিশের চূড়ান্ত আইনি আবেদন সম্পন্ন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসিসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর ঘেরাও করে হেফাজতে ইসলাম। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় এক নজিরবিহীন সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত এক অভিযানে হেফাজত কর্মীদের স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই তৎকালীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক প্রামাণ্য তথ্যাদিসহ ট্রাইব্যুনালে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেন। নতুন করে তদন্ত শুরুর পর গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আসামি নির্ধারণ করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া বহাল রাখে। বর্তমানে বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল লক্ষ্য।


