ঢাকা
১৯ জুলাই ২০২৬
Advertise with us

২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট-বল-গ্লাভস জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬   ১১ বার পঠিত
২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট-বল-গ্লাভস জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা

ছবি: -সংগৃহীত

তুমুল উত্তেজনা, নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চে ভরা ফুটবল বিশ্বকাপ এখন শেষ অধ্যায়ে পৌঁছেছে। টুর্নামেন্টে বাকি আছে মাত্র দুটি ম্যাচ– ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী। ফলে দলগত শিরোপার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারের লড়াইও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

আগামী রোববার (১৯ জুলাই) নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ফিফা ঘোষণা করবে আসরের সেরা খেলোয়াড়দের নাম। টুর্নামেন্ট শেষে দেওয়া হবে ছয়টি বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার। যার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ তিনটি হলো গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন গ্লাভস।

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে জমে উঠেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের লড়াই। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। এবারের আসরে দুজনেরই গোল সংখ্যা সমান ৮টি করে। তবে অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন মেসি, তার অ্যাসিস্ট ৪টি, এমবাপ্পের ৩টি। নিয়ম অনুযায়ী গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট বিবেচনা করা হয়, আর সেখানেও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে থাকা খেলোয়াড় এগিয়ে থাকেন।

তাই ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচই নির্ধারণ করবে এই পুরস্কারের ভাগ্য। ৭ গোল নিয়ে গোলদাতাদের তালিকায় মেসি ও এমবাপ্পের পরেই রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম সমান ৬টি করে গোল করেছেন। ফ্রান্সের ওসমান দেম্বেলে ও স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল করেছেন ৫টি করে গোল।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় গোল্ডেন বল। ২০২২ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সুপারিশের ভিত্তিতে টুর্নামেন্ট কভার করা স্বীকৃত সাংবাদিকদের ভোটে নির্বাচিত হন সেরা ফুটবলার।

ইতিহাস বলছে, সবসময় চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়ই এই পুরস্কার জেতেন না। ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদান, ২০১৮ সালে লুকা মদ্রিচ এবং ২০১৪ সালে মেসি রানার্সআপ দলের হয়েও গোল্ডেন বল জিতেছেন। কারণ ফাইনাল শুরুর আগেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। যদিও ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মেসি এই পুরষ্কার নিজের নামে করে নেন।

এখন পর্যন্ত একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুইবার গোল্ডেন বল জিতেছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন তারকা এবারও পুরস্কারটির প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তার পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে, হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম, আর্লিং হলান্ড এবং কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা।

গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের লক্ষ্যে গোলরক্ষকদের মধ্যেও চলছে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষককে দেওয়া হয় এই পুরস্কার, যা ২০২২ সালে জিতেছিলেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ সেভ, ক্লিন শিট এবং ম্যাচে সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার ২০১০ সাল পর্যন্ত লেভ ইয়াশিন অ্যাওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল।

এবারের আসরে গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। কেপ ভার্দের ভোজিনহা দুর্দান্ত সব সেভ করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার পাশাপাশি আলোচনায় আছেন উরুগুয়ের অরল্যান্ডো গিল, পর্তুগালের দিয়োগো কস্তা, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল, মরক্কোর ইয়াসিন বুনো এবং মিশরের মোস্তফা শোবেইর।

বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচের পরই চূড়ান্ত হবে ব্যক্তিগত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর ভাগ্য। বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বলের দৌড়ে লিওনেল মেসি এগিয়ে থাকলেও গোল্ডেন গ্লাভসের লড়াইয়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন ভোজিনহা।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa