https://asia24.tv


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: -ফাইল ছবি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। দায়িত্বশীল সূত্র অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব ছাড়তে ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পদত্যাগের বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপতি আগস্টের প্রথম দিকে পদত্যাগ করতে পারেন। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা। বঙ্গভবনের একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, রাষ্ট্রপতি তাঁর অধস্তন কর্মীদের দপ্তর ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন এবং পদত্যাগের পর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করবেন। পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে; তার আগে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছে। এর আগে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের নাম আলোচনায় থাকলেও, বর্তমানে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বরত এক সচিবের নাম হঠাৎ সামনে এসেছে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই অনুষ্ঠিত হবে বলে এই পদের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিলে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার এবং ইসলামী ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকে পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসব ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের প্রভাব ও লুটপাটের সময়ে যুক্ত থাকায় তাঁকে নিয়ে তৎকালীন সময়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্রনেতারা রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে বহাল রাখে। পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি ও সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক বৈপরিত্য তৈরি হয়। শুরুতে সরকার তাড়াহুড়ো না করলেও সম্প্রতি সাহাবুদ্দিনকে তাঁদের মনোভাব জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি পদত্যাগ করলে গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরও একটি বড় পরিবর্তন আসবে।


