https://asia24.tv


সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: -ফাইল ছবি
দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান এবং মাত্রাতিরিক্ত আমদানি-নির্ভরতার ফলে দেশে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট দূর করতে বর্তমান সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই রূপরেখা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও অবকাঠামোগত সংস্কারই সরকারের মূল কৌশল।
সংসদে বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ১৫০টি নতুন কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩০টি কূপের খননকাজ সম্পন্ন হওয়ায় দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপে খননকাজ চলমান রয়েছে, যা থেকে শিগগিরই অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, নতুন গ্যাসক্ষেত্র উন্মোচনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালনার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে অনাবিষ্কৃত জ্বালানি সম্পদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করা সহজ হবে।
তৃতীয়ত, রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দুটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যা দেশীয় সক্ষমতা ব্যবহার করে অনুসন্ধান কার্যক্রমকে বহুলাংশে বেগবান করবে।
চতুর্থত, দেশি-বিদেশি বড় মাপের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘অনশোর মডেল পিএসসি’ চূড়ান্তকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি অনুমোদিত হলে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে।
পঞ্চমত, এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি করতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে প্রক্রিয়াগত আলোচনা চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালু হলে দৈনিক ৬০০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি পায়রা, মোংলা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আরও একাধিক ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের প্রশাসনিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ সব বহুমুখী পদক্ষেপে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সার্বিক জ্বালানি সংকট নিরসন হয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় হবে।


