https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
ঢাকা, ৯ জুলাই: দেশে জাল নোট তৈরির পাশাপাশি এর সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাত ও লেনদেন ঠেকাতে নতুন আইন আনছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনে জেনেশুনে জাল নোট নিজের কাছে রাখা বা লেনদেনে ব্যবহার করলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর আট পৃষ্ঠার একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। খসড়াটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমতও আহ্বান করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে জাল নোট তৈরি, তৈরির চেষ্টা, বিশেষ কাগজ, কালি ও নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহ, জাল নোট আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি ও বাজারজাতকরণ—সবকিছুকেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জেনেশুনে জাল নোট সংরক্ষণ বা লেনদেনে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন আইনে জাল মুদ্রাসংক্রান্ত অপরাধের বিধান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে এসব অপরাধকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় এনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
খসড়ায় জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টিং যন্ত্র, বিশেষ কাগজ, কালি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে উদ্ধার করা জাল নোট ও জব্দ করা আলামত ধ্বংসের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে উৎপাদন চক্র সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়।
প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো টেম্পার্ড (কারসাজি করা), ব্লিচড (রাসায়নিক ব্যবহার করে পরিবর্তিত) এবং মিসম্যাচড (অমিল অংশ বা সিরিয়ালযুক্ত) নোটের পৃথক সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ নকল নোটের পাশাপাশি আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য বা মূল্যমান পরিবর্তন করে প্রতারণার ঘটনাও স্পষ্টভাবে জাল মুদ্রার আওতায় আসবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত কারেন্সি অফিসার সন্দেহজনক নোট পরীক্ষা করে তা জাল কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন দেবেন। আদালতে এই প্রত্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
খসড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অধিকাংশ অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য করার প্রস্তাব। ফলে পুলিশ সরাসরি মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করতে পারবে এবং অপরাধীদের সহজে জামিন বা আপসের সুযোগ থাকবে না।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক জানিয়েছেন, বিভিন্ন পক্ষের মতামত পর্যালোচনা শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাল নোট তৈরিতে আধুনিক কম্পিউটার, উচ্চক্ষমতার রঙিন প্রিন্টার ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও জাল নোটের লেনদেনের চেষ্টা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে।
জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেশের পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে টঙ্গী ও গুলিস্তানে পৃথক অভিযানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রায় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে।


