জয়পুরহাটে গত দুই দিনে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে ২৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হঠাৎ এমন গণ-অসুস্থতার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এর আগে মঙ্গলবারও ওই বিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষার্থী একইভাবে অসুস্থ হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই দিনে বিদ্যালয়টির মোট ২৯ জন ছাত্রী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাঁকড়া পিংলু উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দশম শ্রেণির এক-দুজন করে মোট সাতজন শিক্ষার্থী হঠাৎ মাথা ঘুরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন অভিভাবকেরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর বুধবার দুপুরের পর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দেখা দিলে একের পর এক শিক্ষার্থী ক্লাসরুমেই ঢলে পড়ে। এ ঘটনায় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবকেরা দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে ২২ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

কাঁকড়া পিংলু উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে দশম শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অভিভাবকেরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। বুধবার দুপুরের পর পাঠদান চলাকালে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির আরও ২২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। দুই দিনে মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা সবাই ছাত্রী।’

এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল বলেন, ‘অসুস্থ ২২ জন শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে আটজন শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে তিনজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাস সাইকোজেনিকের কারণে এমন ঘটনা ঘটে। এটিও ম্যাস সাইকোজেনিক সমস্যা বলে মনে হয়েছে।’