ঢাকা
১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর অথবা পুশব্যাক করবে ভারত : চিফ প্রসিকিউটর দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চার নতুন পাঠ্যবই, শিক্ষাক্রমে আসছে বড় পরিবর্তন মাদারীপুরে বিষের বোতল হাতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরিশালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে বিএনপি সরকারের পতন ঘটাব : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কোন দল বিশ্বকাপ জিতবে , জানাল সুপার কম্পিউটার বন্যায় ৭ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, নিহত ৫১ চার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সেমিফাইনাল, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষে
Advertise with us

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চার নতুন পাঠ্যবই, শিক্ষাক্রমে আসছে বড় পরিবর্তন

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬   ৩ বার পঠিত
চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চার নতুন পাঠ্যবই, শিক্ষাক্রমে আসছে বড় পরিবর্তন

ছবি: -প্রতিনিধি

আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭) থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি নতুন পাঠ্যবই চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হবে ‘খেলাধুলা’‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকবে ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘আনন্দময় শিখন (লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস)’। একই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে আরও বিস্তৃত পরিসরে শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির তত্ত্বাবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষকের নেতৃত্বে নতুন বইগুলোর বিষয়বস্তু ও শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ চলছে। বর্তমানে কর্মশালার মাধ্যমে খসড়া কাঠামো চূড়ান্ত করার শেষ পর্যায়ের কাজ এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যেই নতুন বইগুলোর কাঠামো চূড়ান্ত হবে।

চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, দাবা, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি খেলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বইটিতে খেলাধুলার গুরুত্ব, শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা, বিভিন্ন ধরনের খেলার পরিচিতি এবং ‘শরীরচর্চা ও ব্যায়াম’ অধ্যায়ে ওয়ার্মআপ, স্ট্রেচিং, ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম, শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়ামের উপকারিতা তুলে ধরা হবে। এছাড়া খেলাধুলায় দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, মানসিক প্রশান্তি এবং ‘নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া’ শীর্ষক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষক জানান, বর্তমান সময়ে শিশুদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় তাদের মাঠমুখী ও স্বাস্থ্যসচেতন করতেই বইটি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণির আরেকটি নতুন বই ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’-তে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ‘আমি ও আমার সংস্কৃতি’, ‘উৎসব ও ঐতিহ্য’ এবং **‘শিল্প-সংস্কৃতি’**সহ বিভিন্ন অধ্যায়ে সংস্কৃতির ধারণা, ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়, জাতীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, পয়লা বৈশাখ, নবান্ন, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, সংগীত, নৃত্য, নাটক, চিত্রকলা, কারুশিল্প ও হস্তশিল্পের বিষয়গুলো স্থান পাবে।

এ ছাড়া লোকগান, লোকনৃত্য, লোককথা, প্রবাদ-প্রবচন, গ্রামীণ মেলা, লোকজ খেলাধুলা, ঐতিহ্যবাহী ও আঞ্চলিক পোশাক, অলংকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, উৎসব, জীবনধারা এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ধারণাও বইটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে কিছু অধ্যায় একীভূত হতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ের মূল লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। এতে দক্ষতা ও পেশার মর্যাদা, দৈনন্দিন জীবনে কারিগরি দক্ষতার ব্যবহার, সমস্যা সমাধানে দক্ষতার প্রয়োগ, নিরাপদে কাজ শেখা, পর্যবেক্ষণ ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ, সমাজ ও জাতীয় উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তির ভূমিকা এবং দক্ষতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

অন্যদিকে ‘আনন্দময় শিখন (লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস)’ বইয়ে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মূল্যবোধ ও মানসিক সুস্থতা গড়ে তোলার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। ব্যায়াম, শরীরের যত্ন, বিনয়, কৃতজ্ঞতা, ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো, পৃথিবীকে উপভোগ করা এবং সুখী হওয়ার বিভিন্ন দিক অধ্যায়ভিত্তিক উপস্থাপন করা হবে। বিশেষ করে ভালো বন্ধু নির্বাচন, ইতিবাচক মানুষের গুণাবলি এবং নেতিবাচক সঙ্গের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কেও আলোচনা থাকবে।

সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষক জানান, বইটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়তা করা।

নতুন চারটি বইয়ের কাঠামো চূড়ান্ত করতে গতকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শুধু একটি বিষয় নয়, এটি পুরো শিক্ষাব্যবস্থার একটি দর্শন। বাংলা, গণিত, ভূগোল কিংবা ইতিহাস—সব বিষয়েই এই দর্শনের প্রতিফলন থাকা উচিত। তিনি খেলাধুলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক বই দুটিকে প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের তুলনায় আরও ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার বইয়ের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করা বলেও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও বক্তব্য দেন।

এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত দিনে বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চারটি নতুন বইয়ের কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa