https://asia24.tv


জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: -সংগৃহীত
চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশবাসীর ভোগান্তিতে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানান। বিরোধী দলগুলোকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় যদি তাদের কাছে এমন কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে যা ৬ মাসের মধ্যে সমাধান আনতে পারে, তবে তা সংসদ ও জনগণের সামনে পেশ করা হোক; ভালো হলে সরকার সেটিই বাস্তবায়ন করবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই দুর্ভোগ কমাতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং আগামী কিছুদিনের মধ্যে গ্যাস সংকটের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) ঢাকা-১৭ আসনের আওতাধীন মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আর্থিক সাহায্য চেক বিতরণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগে প্রায় ৬৮২ জন অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি খাতের বর্তমান দূরবস্থার পেছনে আগের স্বৈরাচারী সরকারের ১৭ বছরের অবহেলাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ওই সময়ে নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান না করায় দেশ বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। উপরন্তু, সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভর করে চলতে থাকা ব্যবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তৃতীয় টার্মিনাল চুক্তি বাতিল করায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। সম্প্রতি কারিগরি বিভ্রাটের কারণে দেশে তীব্র সংকট তৈরি হলেও ইতিমধ্যে তা সমাধান করা হয়েছে। তিনি জানান, চীনসহ অন্যান্য দেশের সহায়তায় নতুন টার্মিনাল আনার চেষ্টা চলছে এবং গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা এত দ্রুত সমাধান করা অবাস্তব। দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।
রাজনীতিতে রাজপথের বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতের দিন শেষ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, মানুষ এখন অস্থিরতার বদলে উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন চায়। দেশের ২০ কোটি মানুষ অর্থাৎ ৪০ কোটি কর্মক্ষম হাতকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ ও আপসহীন সংগ্রামকে স্মরণ করে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


