পাবনায় নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর মোছা. কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর ক্ষতবিক্ষত ও বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। সে ওই গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় বাজার থেকে ঘুরে আসার পর পরই বাইরে থেকে নিখোঁজ হয় কলি। আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে কিছু দূরে তার স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। সম্ভাব্য স্থানে সন্ধান না পেয়ে বাবা পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজ কলির সন্ধানে স্বজন ও সহপাঠীরা সংবাদ সম্মেলন এবং পাবনা শহরে বিক্ষোভ মানববন্ধনও কর্মসূচি পালন করেছিল।
অবশেষে বুধবার সকালে ডোবায় ভাসমান বস্তা দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে বস্তা খুলে শিশুটির শরীর খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় দেখতে পায়।
কলির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, নিখোঁজের পরপরই তারা পুলিশকে সম্ভাব্য কিছু সন্দেহভাজন তথ্য দিয়ে সহায়তা করলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়নি। শোকাহত বাবা কামাল প্রামাণিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। কারা আমার এত বড় সর্বনাশ করল, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসি চাই।”
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করেছে, তা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত দল মাঠে নেমেছে।





মন্তব্য করুন