https://asia24.tv


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: -ফাইল ছবি
দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে কোনো লুকোচুরি না করে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকখানি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-১৭ আসনে আয়োজিত এক আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জ্বালানি সংকটের পেছনের মূল কারণ, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং সংকট কাটাতে সরকারের গৃহীত জরুরি পদক্ষেপগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার তীব্র অস্থির হয়ে ওঠে। তাঁর সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১২ দিনের মাথায় এই আন্তর্জাতিক সংকট তৈরি হয়। প্রথমদিকে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না চাপাতে সরকার জ্বালানির মূল্য অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করেছিল। তবে কিছু অসাধু চক্র তেলের অবৈধ সদ্ব্যবহার ও মজুত শুরু করায় পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে দাম কিছুটা সমন্বয় করতে হয়।
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বিগত দিনে নতুন কূপ খননে উদাসীনতাকে বর্তমান সংকটের মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর জোর দিতে হচ্ছে। আমদানিকৃত গ্যাস খালাসের জন্য নিয়োজিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মধ্যে একটিতে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ড স্রেফ কারিগরি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত নাশকতা—তা নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
গ্যাস বিতরণে অসাধু চক্রের অবৈধ পাম্প ব্যবহারের ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাইপলাইন থেকে বেআইনিভাবে শক্তিশালী যন্ত্র দিয়ে গ্যাস টেনে নেওয়ার কারণে পুরো এলাকা গ্যাস শূন্য হয়ে পড়ছে। গুটি কতক মানুষের এমন অন্যায়ের কারণে সাধারণ শত শত নাগরিক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের জ্বালানি খাতকে পরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাপেক্স’-কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই বাপেক্সকে শক্তিশালী করেছে এবং সারা দেশে ১৩০টি নতুন কূপ খননের একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব কূপে ভালো পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবৈধ সংযোগ ও জাতীয় সম্পদ চুরি রুখতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করার। কেউ অবৈধ সংযোগ নিলে তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততায় এলাকায় যথেষ্ট সময় দিতে না পারায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে তিনি এলাকার মানুষের সার্বিক কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কাজ তাঁর এলাকা থেকেই শুরু হয়েছে এবং আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে বলে তিনি জানান।


