ঢাকা
১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
কক্সবাজারে কড়াকড়ি, মাদক পাচারের বিকল্প রুট কুয়াকাটা! এসডিজি অর্জনে এলডিসির জন্য ন্যায্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো জরুরি : ড. তিতুমীর যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখনও সম্ভব : ট্রাম্প উচ্চশিক্ষায় বিদেশে গিয়ে ফিরছে না দেশের ৬০ ভাগ মেধাবী তরুণ গণভোটের রায় অমান্য হলে ২০২৬ সালের নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ : শফিকুর রহমান ভিএআর সুবিধায় বিশ্বকাপে শীর্ষে যে দেশ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর অথবা পুশব্যাক করবে ভারত : চিফ প্রসিকিউটর দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চার নতুন পাঠ্যবই, শিক্ষাক্রমে আসছে বড় পরিবর্তন মাদারীপুরে বিষের বোতল হাতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন
Advertise with us

কক্সবাজারে কড়াকড়ি, মাদক পাচারের বিকল্প রুট কুয়াকাটা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬   ২১ বার পঠিত
কক্সবাজারে কড়াকড়ি, মাদক পাচারের বিকল্প রুট কুয়াকাটা!

ছবি: -সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নৌপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির পর মাদক পাচারকারীরা বিকল্প রুট হিসেবে বেছে নিচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, কলাপাড়া, মহিপুর ও আলীপুর উপকূলকে। গত এক বছরে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এই রুটে একাধিক বড় মাদকের চালান জব্দ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসন ও স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দক্ষিণাঞ্চলের এই উপকূল একসময় টেকনাফ-কক্সবাজারের মতো বড় মাদক পাচার করিডোরে পরিণত হতে পারে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগর হয়ে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীর সহজ নৌ-যোগাযোগ রয়েছে। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেট এবং কক্সবাজার-টেকনাফভিত্তিক ইয়াবা কারবারিরা সমুদ্রপথে নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তাদের মূল লক্ষ্য কুয়াকাটার পর্যটন এলাকা এবং মহিপুর-আলীপুরের মৎস্য বন্দরকে ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া কিছু অসাধু ট্রলার মালিক, মাঝি ও জেলেকে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাছ ধরার ট্রলারের আড়ালে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক নিরাপদে উপকূলে এনে পরে সড়কপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বড় চালান জব্দ হয়েছে, তবুও এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের অনেকেই এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবল চালান জব্দ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাদক পাচারের অর্থের উৎস, গডফাদার এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে এই নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হবে। সহজে বিপুল অর্থ উপার্জনের লোভে উপকূলীয় এলাকার কিছু মানুষও এ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।

কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন জানিয়েছে, সমুদ্রপথে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ট্রলার ও নৌযানের ওপর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কুয়াকাটায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থাও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মান্নু বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে মাদক পাচারের প্রবণতা বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মোতালেব শরীফের মতে, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটার সুনাম রক্ষায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যদিকে মহিপুর ট্রলার ও আড়ৎদার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আব্বাস হাওলাদার বলেন, অধিকাংশ জেলে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি পুরো মৎস্যখাতের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সম্প্রতি কুয়াকাটায় আয়োজিত এক মাদকবিরোধী ম্যারাথনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে র‍্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় মাদক চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে। শুধু মাদক ব্যবসায়ী নয়, তাদের অর্থের জোগানদাতা ও হুন্ডি চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মহিপুর ও কলাপাড়া এলাকায় বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে ২৪১টি মাদকের চালান জব্দ করা হয়। এসব অভিযানে ৫৭ লাখ ২ হাজার ১৬৬ পিস ইয়াবা, ৫৮৫ লিটার মদ এবং ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২৪৫টি মামলা দায়ের করা হয় এবং নারীসহ ২৯৪ জনকে আসামি করে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সমুদ্রপথে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, ট্রলার চলাচলের কার্যকর মনিটরিং এবং বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা না গেলে কুয়াকাটা-কলাপাড়া উপকূল ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম বড় মাদক পাচারের রুটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa