https://asia24.tv


ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। ছবি: -প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে আয়োজিত নবীনবরণের সাংস্কৃতিক কনসার্ট দ্রুত বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করে এ দাবি নিশ্চিত করে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে আলেম-ওলামা, ইসলাম ও সুদৃঢ় ধর্মীয় মূল্যবোধের এক অনন্য জনপদ। জেলাটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ এখানকার সর্বসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনদের বরণ করে নিতে গানের কনসার্ট আয়োজনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল শিক্ষা পরিবেশ, সার্বিক জননিরাপত্তা এবং স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতির পুরোপুরি পরিপন্থী। অতীতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এ ধরনের আয়োজন বন্ধ রাখাই যুক্তিসঙ্গত।
সাম্প্রতিক অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি ফুজায়েল আহমেদ খান জানান, গত মাসে পুলিশ লাইন্সের অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই লাঠিচার্জে প্রায় ৩০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, উক্ত ঘটনার এক মাস পার না হতেই আবারও কনসার্টের আয়োজন করা আঘাতপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার শামিল।
এ ছাড়া ৮-৯ বছর আগে নবীনবরণের কনসার্টে এক ছাত্রী ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার পর কলেজ ক্যাম্পাসে এই ধরনের ডিজে ও নাচগানের কনসার্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে কওমি শিক্ষার্থীরা মনে করিয়ে দেন। তারা কলেজের বর্তমান ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি জানান।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. কে. এম. ওবায়দুল হক জানান, স্মারকলিপির বিষয়টি তিনি দাপ্তরিকভাবে এখনো পুরোপুরি অবগত নন। কোনো সংগঠন সরাসরি যোগাযোগ করে গঠনমূলক পরামর্শ দিলে এবং স্থানীয় প্রশাসন দিকনির্দেশনা প্রদান করলে তারা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি আরও বলেন, এটি ঢালাও কোনো কনসার্ট নয়; বরং নবীনবরণ, বৃক্ষরোপণ এবং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রস্তুতকৃত একটি নিয়মমাফিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি শিক্ষার্থীদের তীব্র আপত্তির মুখে পূর্বেও একাধিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ মে শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর বিশেষ প্রদর্শনী কওমি শিক্ষার্থীদের তীব্র বাধার মুখে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল আয়োজকরা।


