https://asia24.tv


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: -ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে স্মরণকালের ভয়াবহতম ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধায় নিহতদের স্মরণ করেছেন দেশটির বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্টরা। ২০০১ সালের এই দিনে হাইজ্যাক করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার মাঠে আছড়ে পড়লে প্রায় তিন হাজার নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারান।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এই শোকাবহ বার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভার নেতৃত্ব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নেন নিউইয়র্কের ‘গ্রাউন্ড জিরো’ অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্মৃতিসৌধে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে। সেখানে চারজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট—জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন ও জো বাইডেন তাঁদের সহধর্মিণীদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
হামলার নির্দিষ্ট সময় মুহূর্তগুলোকে স্মরণ করে পালন করা হয় গভীর নীরবতা। ম্যানহাটনে টানা চার ঘণ্টা ধরে নিহত তিন হাজার মানুষের নাম পরম শ্রদ্ধায় পাঠ করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘ট্রিবিউট ইন লাইট’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ম্যানহাটনের আকাশে দুটি বিশাল আলোর স্তম্ভ প্রজ্জ্বলন করা হয়। পেন্টাগনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য এবং হামলার সময়কার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কনডোলিজা রাইস।
পেন্টাগনের বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, এক চতুর্থাংশ শতাব্দী আগে নিহতদের স্মরণে গৃহীত পবিত্র শপথ পুনর্ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র কখনো তাদের ভুলবে না। একই সঙ্গে তিনি তৎকালীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি যুক্ত করে হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে নিহতদের স্বজনদের সংগঠন ‘৯/১১ ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড’-এর জাতীয় চেয়ারপারসন টেরি স্ট্রাডা এই হামলার পেছনে সৌদি আরবের গোপন ভূমিকা এবং মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলে উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। উল্লেখ্য, হামলায় জড়িত বেশিরভাগ হাইজ্যাকারই ছিল সৌদি নাগরিক এবং মূল পরিকল্পনায় ছিল আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। তবে সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই এই হামলায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের পাশাপাশি পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভিলেও স্মারক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের সঙ্গে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করার পর তা বিধ্বস্ত হয়েছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্বজুড়ে এই ট্র্যাজেডি স্মরণ করা হয়। লণ্ডনের বাকিংহাম প্যালেস, কানাডার টরন্টো ও গ্যান্ডার শহর এবং ইতালির মিলানে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। মিলানে মার্কিন ও ইতালীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা টুইন টাওয়ারের স্মৃতিতে ১১০ তলার গালফা টাওয়ারে ওঠানামা করে নিহত সহকর্মীদের স্মরণ করেন।


