https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চট্টগ্রামের দুই হাজার মসজিদে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় এ কার্যক্রম শুরু হয়।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ঠেকাতে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না। হাসপাতালের শয্যা বাড়াতে পারি, ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করতে পারি, চিকিৎসাসুবিধা দিতে পারি; কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’
পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পরিবেশ পরিষ্কার রাখা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একার দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।’
কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, স্কাউট, গার্ল গাইড, পরিবেশসচেতন বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য ও তরুণেরা অংশ নেন।
জেলা প্রশাসন জানায়, গত ২৫ জুলাই থেকে প্রতি শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ছয় হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। ওইদিন সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনা থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।
এরপর বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এরই মধ্যে জেলার প্রায় এক হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, পুকুর ও জলাশয় পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার প্রজননঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সেগুলো ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকা এখনো কার্যক্রমের আওতায় আসেনি, পর্যায়ক্রমে সেখানেও অভিযান চালানো হবে।
এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক কর্মশালায় জেলার দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ আয়োজিত ওই কর্মশালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিকদের অভ্যাসে পরিণত করতে জেলাজুড়ে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


