https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশে এসে এ দেশের ফুটবলপ্রেমীদের সীমাহীন আবেগে মুগ্ধ আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার ক্লদিও ক্যানিজিয়া। সোমবার বাংলাদেশে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ, হামজা চৌধুরী, লিওনেল মেসি এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: বাংলাদেশে এসে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
ক্যানিজিয়া: অসাধারণ! এখানে আসার পর আমাকে যেভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে, তা এক কথায় দুর্দান্ত। বাংলাদেশে এসে আমি দারুণ উপভোগ করছি। এখানকার মানুষ ফুটবলের প্রতি ভীষণ আবেগপ্রবণ। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলা চলাকালীন এ দেশের মানুষের উদযাপনের দৃশ্য আমি টিভিতে দেখেছি। তাই এখানে এত আর্জেন্টিনা সমর্থক সরাসরি দেখে আমি মোটেও অবাক হইনি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের পক্ষে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলা কি সম্ভব?
ক্যানিজিয়া: বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পথটা সবসময়ই বেশ কঠিন। তবে বাংলাদেশ ফুটবলে এগোচ্ছে। গত দুই দশকে বিশ্বের বহু দেশ যেমন ফুটবল মান উন্নত করেছে, বাংলাদেশও তা পারবে। এখন বিশ্বকাপে ৪৮টি দল খেলছে, সংখ্যাটি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তাহলে বাংলাদেশ কেন স্বপ্ন দেখবে না? অবশ্য কাজটি সহজ নয়; এর জন্য সরকারের সহযোগিতা, ভালো কোচিং স্টাফ, মানসম্মত পরিবেশ এবং উদীয়মান প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কাঠামোগত ব্যবস্থা দরকার।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের উদীয়মান ফুটবলারদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
ক্যানিজিয়া: এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ। শুধু স্বাভাবিক প্রতিভা থাকলেই চলবে না, খেলোয়াড়দের মানসিকভাবেও প্রস্তুত ও শক্তিশালী হতে হবে। ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান ও টেকনিক্যাল দক্ষতার পাশাপাশি শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে জয়ের মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
প্রশ্ন: হামজা চৌধুরী সম্পর্কে কি আপনি অবগত আছেন?
ক্যানিজিয়া: হ্যাঁ, আমি তার খেলা সম্পর্কে জানি। সে সত্যিই একজন উঁচুমানের খেলোয়াড়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো শীর্ষ সারির টুর্নামেন্টে খেলে আসা একজন ফুটবলার পাওয়া বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য অনেক বড় একটি ধনাত্মক দিক। একাধিক খেলোয়াড় যদি ইউরোপের বিভিন্ন মানসম্পন্ন লিগে খেলার সুযোগ পায়, তবে সেই অভিজ্ঞতা জাতীয় দলকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিদেশের লিগে খেলোয়াড় রপ্তানি করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দ্রুত আসে না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নিয়ে কী বলবেন?
ক্যানিজিয়া: বাংলাদেশের সমর্থকেরা নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও অনন্য। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর থেকেই টিভিতে এখানকার সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস দেখেছি। সত্যি বলতে, শুরুতে বিষয়টিকে আমার কাছে একধরনের পাগলামী মনে হতো! কারণ আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশ ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি দেশ। তা সত্ত্বেও আমাদের প্রতি এই ভালোবাসার টান অবিশ্বাস্য! আমাদের জয়ে তারা যেমন উৎসবে মেতে ওঠে, আমাদের পরাজয়ে তেমনি কষ্ট পায়। এমন ভালোবাসা সত্যি বিরল।
প্রশ্ন: লিওনেল মেসিকে কি ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলতে দেখা যাবে?
ক্যানিজিয়া: বাস্তবতার নিরিখে ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির অংশ নেওয়াটা একটু কঠিনই বলা চলে। কিন্তু মেসি হচ্ছেন ফুটবলের বরপুত্র, এক অতুলনীয় জাদুকর। সে চাইলে ৪০, ৪১ কিংবা ৪২ বছর বয়সেও অনায়াসে খেলে যেতে পারে। দক্ষতার বিচারে সে সব সময়ই সক্ষম; তবে সবকিছুই নির্ভর করছে তার নিজস্ব ইচ্ছা ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর।
প্রশ্ন: ম্যারাডোনা নাকি মেসি—কাকে বেছে নেবেন?
ক্যানিজিয়া: এদের দুজনের মধ্যে কোনো একজনকে আলাদা করা অসম্ভব ও অনুচিত। পেলে, ম্যারাডোনা ও মেসি—এই তিনজনই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা তিন নক্ষত্র। এর মধ্যে দুজন আবার আমাদের আর্জেন্টিনার! একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে এটা আমাদের জন্য অপরসীম আনন্দের ও গর্বের।
প্রশ্ন: ২০০২ বিশ্বকাপে সেই বিতর্কিত লাল কার্ডের প্রসঙ্গটি কীভাবে দেখেন?
ক্যানিজিয়া: ঘটনাটি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবিশ্বাস্য ছিল। আমার বিশ্বাস, সেদিন রেফারির সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আমাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। দীর্ঘ বিশ বছরের ক্যারিয়ারে রেফারিদের অনেক ভুলভ্রান্তি দেখেছি, তবে ঐ ঘটনাটি আমার খেলোয়াড়ি জীবনের অন্যতম তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। তাতে আমার কোনো দোষ ছিল না।
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্বে আসার প্রস্তাব পেলে তা গ্রহণ করবেন?
ক্যানিজিয়া: এখন পর্যন্ত বাফুফে বা সংশ্লিষ্ট কারো পক্ষ থেকে অফিসিয়াল কোনো প্রস্তাব পাইনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন কোনো প্রস্তাব আসলে আমি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখব। যে দল ফুটবলে বড় সাফল্য পেতে চায় এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে আগ্রহী, তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা সবসময়ই আনন্দের। ফুটবলে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সুযোগ সব সময়ই থাকে, তাই ভবিষ্যতে এমন কিছু হলে অবশ্যই ভেবে দেখব।


