ইরাকে থাকা সর্বশেষ মার্কিন সেনারাও দেশটি ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা এবং আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে ইরাক ত্যাগ করেছেন। তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জামও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বহু বছর ধরে চলা এই প্রত্যাহারকে ইরাক সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। গত দুই দশকে ইরাকে যুদ্ধ ও বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাসের পর এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো।
২০০৩ সালে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী বৈশ্বিক যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করলেও ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের উত্থানের পর আবার সেনা মোতায়েন করা হয়।
২০১৭ সালে আইএসের দখলে থাকা ভূখণ্ডের পরাজয়ের পর ইরাকে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনাদের ভূমিকা ধীরে ধীরে পরামর্শদাতা পর্যায়ে নেমে আসে। গত বছরের শেষ দিকে অবশিষ্ট কয়েকশ বিদেশি সেনাকে এরবিলে একত্র করা হয়েছিল।
শন পারনেল বলেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইরাকে আইএসকে একটি সংগঠিত সামরিক শক্তি হিসেবে পরাজিত করার ১২ বছরের অভিযানের সাফল্যকে তুলে ধরে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন জোটের অভিযান থেকে ইরাকের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তাব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন ঘটল। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্কের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র আরও বলেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বাকি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব এখন ইরাক সরকারের ওপর। এর মধ্যে আইএসের অবশিষ্ট সদস্য এবং ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ও রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী, কুর্দিস্তান অঞ্চলের পেশমার্গাসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী আইএসের অবশিষ্ট সদস্যদের দমন এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নেতৃত্ব দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি অংশীদারদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে যাবে।
ট্রাম্পের ভাষায় ‘ব্যয়বহুল নরকযাত্রার’ সমাপ্তি
২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তিনি এ অবস্থান নিয়েছিলেন।
২০২৪ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাবেক ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনায় সম্মত হন।
বুধবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরাকে থেকে যাওয়া অথবা ফিরে আসার সুযোগ ছিল এবং তিনি মনে করেছেন, আমেরিকার ঘরে ফেরার সময় হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এই দিনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের জন্য বিজয়ের এবং আইএসের বিরুদ্ধে একটি নির্ণায়ক বিজয়।
সূত্র: আল-জাজিরা





মন্তব্য করুন