রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।। সরকার একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেকেই একটা বিতর্ক তোলার চেষ্টা করেছেন যে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে কিনা। আমি কয়েকটি বিষয় আপনাদের সামনে পরিষ্কার করছি। আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকার করেছি, আন্দোলন করেছি, গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করেছি। এই বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, এই সমস্ত পরীক্ষা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সেই কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না।
কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তিনি আত্মহত্যা করবেন, গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবেন। প্রজ্ঞাপনে (বিসিএস) তার নাম ছিল, কিন্তু ভেরিফিকেশনের কারণে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি; সেজন্য গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবেন!
তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপন তো একবার হয় না, কয়েকবার হতে পারে। সার্ভিসে যোগদানের তারিখ সম্ভবত ১২ তারিখ, আজকে ১ তারিখ, মাঝে আরও ১১টি দিন রয়েছে। যারা এই সমস্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন, তিনি তাদের একজন। তার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চয়ই আপনারা জেনেছেন। আমি বলতে চাচ্ছি না। তার রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে—তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের পদ-পদবীধারী নেতা ছিলেন, সম্ভবত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার সেই রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে তিনি সন্দেহ করে নিয়েছেন যে তাকে আর চাকরির নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। আমি এখন ঘোষণা করছি, আগেও বলেছি—কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারো প্রতি কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না। কিন্তু ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারও বিরুদ্ধে যদি গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে শতকরা একজন বা হাজারে দুই-একজনের সেই অপরাধের কারণে বাদ পড়তে পারে। কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো কনভিকশন থাকে, সেটা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেরকম কিছু কিছু আইনি বিধান থাকে। তা না হলে পরবর্তী সময়ে পাবলিক সার্ভিসে নিয়মিত প্রশ্ন উঠবে, যেমন অতীতে অনেক বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে আমরা দেখেছি। ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করব তাদের।
মন্ত্রী বলেন, আরও একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন—আমি নাম নেব না, তিনিও একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বিভিন্ন রকমের স্ট্যাটাস দিয়েছেন যে, ‘ভেরিফিকেশনের নামে সমস্ত অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হোক’। ভেরিফিকেশন একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া; সেটা সবসময়, সব সরকারের সময় বিধি মোতাবেক করা হয়ে থাকে। কিন্তু যদি গুরুতর কোনো অভিযোগের কারণে কেউ ভেরিফিকেশনের দরুন নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটা অভিযোগ বা আবেদন দাখিল করা যায়, যা তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এখনো সেই সময়টা আসেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ সমস্ত অপপ্রচার বা অপতথ্য দিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি করার কোনো কারণ নাই মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করব, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য আমাদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের যেন উত্তেজিত না করা হয়। আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, রাজনৈতিক পরিচয়ে কারও প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না।
তিনি বলেন, নিয়োগপত্র ইস্যু করার জন্য প্রজ্ঞাপনের আরও সময় আছে। বাকি আছে ৪৬ জন; আগামী সোমবার এই ৪৬ জনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির দিন নির্ধারিত আছে। তার আগে কিছু প্রক্রিয়া আছে, প্রজ্ঞাপনের ফাইলে রাষ্ট্রপতির সিগনেচার প্রয়োজন হয়। আমি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করব। আর যারা এ সমস্ত অপতথ্য প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের এসব থেকে বিরত থাকার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া একরকম শেষ হয়েছে। আমি জনপ্রশাসন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতেছি, সচিবের সঙ্গে কথা বলতেছি এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলতেছি। তারা কাজ করছেন, এমনকি শনিবারে ছুটির দিনেও কাজ করছেন প্রক্রিয়াটি শেষ করার জন্য।





মন্তব্য করুন