https://asia24.tv


প্রতীকী ছবি। ছবি: -ফাইল ছবি
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর অবশেষে পুনরায় চালু হয়েছে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) ভোররাত থেকে জাতীয় গ্রিডে ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কাটতে শুরু করেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও বাসাবাড়ির আবাসিক সংযোগে। অনেক এলাকায় সিএনজি স্টেশনের দীর্ঘ লাইন কমে এসেছে এবং বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গ্যাসের চাপ।
পেট্রোবাংলার উপ-মহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন ও বিপণন) প্রকৌশলী মো. শহীদুল হক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটির মেরামতের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। এটি বর্তমানে পর্যবেক্ষণমূলক ব্যবস্থার অধীনে রেখে ভোররাত থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। আগে থেকে সচল থাকা একটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং নবনির্মিত ও সচল হওয়া টার্মিনাল থেকে বর্তমানে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কারিগরি সব বিষয় পুরোপুরি যাচাই করে ধাপে ধাপে সরবরাহ আরও বাড়ানো হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গ্যাস সরবরাহ বাড়ার কারণে বাণিজ্যিক বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিনের চেনা জটলা কমতে দেখা গেছে। নগরের মুরাদপুর এলাকার এক ফিলিং পাম্পের ব্যবস্থাপক মো. ফখরুদ্দীন ইসলাম শিমুল জানান, তীব্র সংকটের সময় পাম্পে গ্যাসের চাপের রিডিং ১৫০ থেকে ১৭০-এ নেমে গিয়েছিল, যা এখন স্বাভাবিক ২২০-এ পৌঁছেছে। এর ফলে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে এবং গাড়ির উপচে পড়া লাইন নেই বললেই চলে। অন্যদিকে হামজারবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও সকালে নির্বিঘ্নে রান্নাবান্নার কথা উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এর সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সারাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার চাকা স্থবির হওয়ার পাশাপাশি তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। তবে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় সার্বিক সংকট দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


