যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের চরম মূল্যবৃদ্ধি ও তীব্র বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে একের পর এক দেশে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের এই আকাশচুম্বী ব্যয় সাধারণ পরিবার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও জরুরি পরিষেবাগুলোর ওপর অসহনীয় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। খবর সিএনএনের।
পারস্য উপসাগরে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলা এবং ইয়েমেনে পুনরায় সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আসন্ন শীত মৌসুমে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে হিটিং অয়েলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। যা মূলত উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে ফেলছে।
এই বৈশ্বিক সংকটের প্রথম ধাক্কায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ায় তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে সরকার ডিজেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরপরই সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন জ্বালানো এবং তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দিয়ে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
একইভাবে মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় জ্বালানির লাগামহীন দামের প্রতিবাদে ট্রাকচালকেরা ধর্মঘট ডেকে দেশজুড়ে মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির কংগ্রেস বছরের শেষ পর্যন্ত জ্বালানির সর্বোচ্চ মূল্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে দেওয়ার আইন প্রণয়ন করছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দাম বাড়লে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার।
ইউরোপের দেশগুলোতেও অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে। পর্তুগালের উপকূলীয় শহর এসপিনহোতে ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা করেন। ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ফস-সুর-মেরে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ জেলেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপো পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে এশিয়ার ফিলিপাইনে পরিবহন কর্মীরা সব ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আবগারি কর কমানো ও স্থায়ী জ্বালানি ভর্তুকির দাবিতে দেশজুড়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেছেন। মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই সংকট দেশটির পরিবহন খাতকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার উপক্রম করেছে।
বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনের পেছনের অভিন্ন উদ্বেগ হলো—আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট দ্রুত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা চরমভাবে হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশ্বনেতাদের ওপর প্রশাসনিক ও সামাজিক চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।




মন্তব্য করুন