বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার নিজের শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী ও টিকিয়ে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে সম্পূর্ণ নিজেদের মতো করে ব্যবহার করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রয়াত সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের চরম আগ্রাসন থেকে দেশের কোনো খাতই মুক্ত ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত ক্যাম্পাস, খেলার মাঠ থেকে শুরু করে দেশের রাজপথ—সবকিছুই জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ ও র‍্যাবসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নিজেদের অনুগতদের পদায়ন করে বিরোধী মত ও কণ্ঠ স্তব্ধ করতে তাদের অত্যন্ত নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, চারদিকের সমস্ত গণতান্ত্রিক পথ রুদ্ধ হয়ে গেলেও জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো জায়গায় কিছুটা বাকস্বাধীনতার সুযোগ ছিল। তবে স্বৈরাচারী সরকার শেষ পর্যন্ত সেই জায়গাতেও হস্তক্ষেপ করে। প্রেস ক্লাব থেকে নজিরবিহীনভাবে বিপুলসংখ্যক পুলিশ পাঠিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হতো। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, সাময়িকভাবে দমন-পীড়ন চালিয়ে একনায়কতন্ত্র টিকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের পতন এড়ানো যায় না।

প্রয়াত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন নির্ভীক মুক্তিযোদ্ধা ও আপসহীন সাংবাদিক। অন্যায় নির্যাতন, ধারাবাহিক চাপ, মিথ্যা মামলা ও রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েও তিনি ফ্যাসিবাদের কাছে নতি স্বীকার করেননি। চরম নির্যাতন সহ্য করেও মাথা উঁচু করে গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন।

স্মরণসভায় তিনি আরও যোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঠিক আগে এই মহান সাংবাদিক নেতার প্রয়াণ অত্যন্ত বেদনার। মুক্তচিন্তা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধে বিশ্বাসী রুহুল আমিন গাজীর জীবন ও নীতি রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাশির জামাল এবং দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার উপস্থিত ছিলেন।