ঢাকা
৩১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেসে’ পাথর নিক্ষেপ, আহত ২ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আবেদন দিল্লির আইনি পর্যালোচনায় সাগরে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি: ১৮ জন উদ্ধার, মাঝিসহ নিখোঁজ ১৩ উখিয়া ক্যাম্পে মার্কিন বিশেষ দূত: দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবিতে সোচ্চার রোহিঙ্গারা চীন, রাশিয়া ও ভারত ও ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের সুযোগ বাংলাদেশে নেই: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী টানা হামলায় জড়ানোর পরিকল্পনা ট্রাম্পের লোহিত সাগরে মুক্ত বাণিজ্য রক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের নৌ-জোট তিন দেশের ১২ মাঠে গড়াচ্ছে ২০২৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপ পলিসি রেট কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক, কমছে ঋণের খরচ
Advertise with us

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর শর্তে অস্ত্র ও শাসনভার ছাড়তে রাজি হামাস

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬   ০ বার পঠিত
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর শর্তে অস্ত্র ও শাসনভার ছাড়তে রাজি হামাস

ছবি: রয়টার্স।  ছবি: -সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গাজা উপত্যকায় টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা অর্জিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার শর্তে সম্মতি জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী সংগঠন। নতুন এই চুক্তির অধীনে হামাস ধাপে ধাপে তাদের সমস্ত অস্ত্র সমর্পণ করবে, গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব ত্যাগ করবে এবং জবাবে ইসরায়েল গাজা থেকে তাদের সেনাবাহিনী পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নেবে।

বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। একে টেকসই আঞ্চলিক নিরাপত্তার পথে এক “ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প জানান, হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলেই গাজা থেকে সেনাবহর সরাবে ইসরায়েল। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং গাজার দ্রুত পুনর্গঠন নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক ‘ভেরিফিকেশন কমিটি’ বা যাচাইকারী সংস্থা কাজ করবে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে বর্তমানে প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসা হামাসের প্রশাসনিক কাঠামোর অবসান ঘটিয়ে গাজার শাসনভার তুলে দেওয়া হবে ১৫ সদস্যের একটি স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক সরকারের হাতে। এই নতুন সরকার সার্বিক শাসনকাজ পরিচালনা ও পুনর্গঠনে সরাসরি ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। ইতোমধ্যে কায়রোতে কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের দীর্ঘ আলোচনার পর হামাস প্রতিনিধিরা এই চুক্তির বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরার হাতে আসা চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, আগামী আট মাসের মধ্যে হামাস তাদের হালকা ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন বন্ধ ও নিষ্ক্রিয় করবে। একই সঙ্গে গাজায় বিস্তৃত নিজেদের পুরো সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক, গোপন অস্ত্রাগার এবং অস্ত্র তৈরির কারখানার নিখুঁত ভৌগোলিক মানচিত্র তুলে দিতে হবে। একটি স্থানীয় জাতীয় কমিটি ও পুলিশের কাছে প্রথম দফায় অস্ত্রগুলো সমর্পণ করা হবে। পরবর্তীতে সেখানে আন্তর্জাতিক বাহিনীর সমন্বয়ে নতুন অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে, যেখানে তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের সদস্যরাও যুক্ত থাকতে পারেন।

হামাসের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী দলীয় নেতা গাজি হামাদ অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, গাজার সাধারণ মানুষকে নির্বিচার গণহত্যা, ক্রমাগত বোমাবর্ষণ এবং চরম বাস্তুচ্যুতির হাত থেকে রক্ষা করতেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। তবে ইসরায়েল যদি তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে অথবা সেনা প্রত্যাহার ও মানবিক সহায়তা প্রদানে বাধা দেয়, তবে হামাসও চুক্তির কোনো শর্ত মানতে বাধ্য থাকবে না।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় গাজায় ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যার সিংহভাগই নারী ও শিশু। পুরো ভূখণ্ডটি চরম মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক চাপে অবশেষে এই নিরস্ত্রীকরণ সমঝোতায় পৌঁছায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো, যার মধ্য দিয়ে গাজায় একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের উন্মোচন হতে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa