ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৬টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এই বড় ধরনের হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে চরম সামরিক উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

একই সঙ্গে গত এক সপ্তাহে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি হামলার এসব অভিযোগ করা হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

অন্যদিকে, তাইজ প্রদেশের আল ওয়াজিয়াহ জেলায় সংঘর্ষে তারা ৩০ জন হুথি যোদ্ধাকে হত্যা এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন সৌদি আরবের সমর্থিত ইয়েমেন সরকার দাবি করেছে। ফলে দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের মধ্যে ইয়েমেনে নতুন করে লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এর মধ্যেই শুক্রবার সানায় হাজারো মানুষ মিছিল করেছেন।

ইরানের সমর্থিত হুথিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবং সৌদি আরবের বিরোধিতা করে এ মিছিল করা হয় বলে জানা গেছে।
হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেখানে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এসব এলাকার মধ্যে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মানদেব প্রণালিও রয়েছে। ফলে, এ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন শিশু ছিলেন বলে দুই পক্ষের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, হুথিদের একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর তাইফ গভর্নরেটে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাইজ ও আবস শহরে সৌদি হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া, চলতি সপ্তাহের ছুটির দিনে ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। বাব আল মানদেব প্রণালিতে হুথিদের অগ্রযাত্রার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণেই বৈঠকটি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন জাহাজকে তারা নিশানা করবে না বলে জানিয়েছে তারা।

তবে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানোর আহ্বান জানানো হলেও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আরেকটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না। ফলে, হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা