প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে রাষ্ট্রপ্রধানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই। ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর অগ্রযাত্রার সুনির্দিষ্ট বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যাবেন এবং সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার সিলেটের একটি হোটেলে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপাক্ষিক নানাবিধ অমীমাংসিত বিষয় ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও দুই দেশের আলোচনার পথ সবসময় উন্মুক্ত রয়েছে। একটি নিকটবর্তী প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে বজায় রাখা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুসম্পর্ক সমীচীন।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে জ্বালানি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে। বর্তমান সরকার এই খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সংকট নিরসনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখে বৈশ্বিক যেকোনো জোটে যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, বহুপাক্ষিক সম্পর্কের খাতিরে ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে কথাবার্তা চলছে এবং বাংলাদেশের জন্য এতে যুক্ত হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান কেনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ দেশের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে না; প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে, প্রয়োজনে তা আরও সংগ্রহ করা হবে।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যু প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সক্রিয় অসৎ সিন্ডিকেটের দরুন মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং শিগগিরই ধাপে ধাপে আবার শ্রমিক পাঠাবে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনকালে সিলেট অঞ্চলের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ অন্যান্য প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।