কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ বসানোর সময় মাটির গভীর থেকে গ্যাসের সঙ্গে বের হওয়া আগুন ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অবিরাম এই আগুন জ্বলার কারণে আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা কাজ করে যাচ্ছেন।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য বোরিং করা স্থান থেকে গ্যাসের সঙ্গে আগুন বের হওয়ার একদিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনো আগের মতোই গ্যাসের সঙ্গে আগুন বের হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আগুন দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাপেক্সের একটি প্রতিনিধি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার ছোট ইনানী সিকদার পাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ নামে এ ব্যক্তির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আজ বুধবারও সেখানে আগের মতোই গ্যাসের সঙ্গে আগুন বের হচ্ছে।
বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ বলেন, এক সপ্তাহ আগে নিজের ব্যবহারের জন্য বাড়ির উঠানের সামনে গভীর নলকূপ বসাতে বোরিং করা হয়েছিল। কিন্তু পানি না পাওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে ওই স্থান দিয়ে গ্যাসের সঙ্গে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ওই দিন দুপুরে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। কিন্তু এরপরও গ্যাসের সঙ্গে আগুন বের হওয়া বন্ধ হয়নি।
এদিকে ইনানীতে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য বোরিং করতে গিয়ে গ্যাস নির্গমনের বিষয়টি জানাজানি হলে দূরদূরান্ত থেকে তা দেখতে মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। গ্যাসের সঙ্গে তীব্রভাবে আগুন জ্বলছে। মাঝে মধ্যে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যাচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ইনানীতে যেখান থেকে গ্যাসের সঙ্গে আগুন বের হচ্ছে, সেই স্থানটি নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় এনে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, ঘটনার পর বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইউএনও আরও বলেন, গ্যাসের সঙ্গে যে আগুন বের হচ্ছে, তা প্রাকৃতিকভাবে নিভে যেতে দিতে হবে। জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব নয়। তাই এক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ দলের বরাত দিয়ে ইউএনও জানান, গ্যাসের সঙ্গে বের হওয়া আগুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত জ্বলতে পারে।





মন্তব্য করুন