বঙ্গোপসাগরে এলএনজিবাহী জাহাজ ভেড়ানো নিয়ে জটিলতা এবং মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) নতুন করে দেখা দেওয়া কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ খাতে পর্যাপ্ত গ্যাস বরাদ্দ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা হলেও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক, শিল্পকারখানা ও সিএনজি খাতের গ্রাহকেরা।
পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মস-টাইপ এলএনজি পরিবাহী ‘আল হামরা’ নামের একটি জাহাজ তিন দিন ধরে বঙ্গোপসাগরে নোঙর করে থাকলেও টার্মিনালের কারিগরি পরিচালক এক্সিলারেট এনার্জি জাহাজটির ধরনগত নিরাপত্তার অজুহাতে সামিটের এফএসআরইউতে সেটিকে ভেড়ার অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে, সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের মহাব্যবস্থাপক মোহসিনা হাসান জানান, তাঁদের ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতার টার্মিনালটি পুরোপুরি প্রস্তুত ও সচল থাকলেও কার্গো না পাওয়ায় কিছুদিন রিগ্যাসিফিকেশন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে শুক্রবার ‘বিডব্লিউ লেসমেস’ নামের আরেকটি মেমব্রেন-টাইপ জাহাজ নোঙর করায় সন্ধ্যা থেকে ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট আরএলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যায় এক্সিলারেট পরিচালিত অপর এফএসআরইউটি, যা থেকে আগে দৈনিক ২৫০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছিল। এর আগে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ২ আগস্ট আংশিক চালু হওয়া টার্মিনালটি নতুন করে বন্ধ হওয়ায় পুরো এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।
দেশে প্রতিদিন ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে এলএনজিসহ মোট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিল মাত্র ১,৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ ঘাটতি বিদ্যমান। লোডশেডিং এড়াতে সরবরাহকৃত গ্যাসের প্রায় অর্ধাংশ (৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট) দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। পাশাপাশি ভারত থেকে আদানি পাওয়ার ১,২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখায় দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নতি দেখা যায়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে ঘাটতি থাকলেও সকাল ১০টার পর থেকে সারাদেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং কার্যত শূন্যে নেমে আসে।
তবে বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সরাসরি খেসারত দিতে হচ্ছে আবাসস্থল ও শিল্প খাতকে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে কর্ণফুলী গ্যাস মাত্র ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ায় শিল্প পুলিশ জানায়, গ্যাস সংকটে ইতোমধ্যেই বহু কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কয়েকটি পুরোপুরি বন্ধের মুখে। গ্যাসের তীব্র স্বল্পতায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের কিলোমিটার জোড়া লাইন তৈরি হয়েছে এবং বাস-অটোরিকশা চালকেরা সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটিয়েছেন। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় আটা, চাল ও চিনি মিলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।





মন্তব্য করুন