https://asia24.tv


প্রতীকী ছবি। ছবি: -ফাইল ছবি
মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ আবারও সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। এতে গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির মতো অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা যুক্ত করে কঠোর শাস্তি এবং জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই সংশোধিত এই আইন পাস হতে পারে।
আইনে নতুন যুক্ত হতে যাওয়া ২৬/ক ধারায় সাইবার পরিসরে গুজব ও অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এআই ব্যবহার করে অডিও-ভিডিও বা ছবি বিকৃত করার মাধ্যমে কারো মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করলে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী নারী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে এই অপরাধের সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনটি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং এনটিএমসি’র মতো সংস্থাকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা রোধ করতেই আইনটিকে কঠোর করা হচ্ছে। তবে সরকারের ভেতরেই এ সংশোধনী নিয়ে কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞরা এই উদ্যোগের সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ‘গুজব’ বা ‘অপতথ্য’-এর সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড না থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হবে এবং দেশ আবারও বিগত সরকারের আমলের বিতর্কিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’-এর কঠোর বাস্তবতায় ফিরে যাবে। তড়িঘড়ি না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


