https://asia24.tv


ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। ছবি: -সংগৃহীত
২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র্যাব-৭ এর অধিনায়ক ও বর্তমানে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২) কর্তৃক এই হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে পরোয়ানা জারির পরই সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে তাকে হেফাজতে নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেনা সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০১৮ সালে বহুল আলোচিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং হেফাজতে থাকা তিনজনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয়।
মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলী এলাকার হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে ৪৬ বছর বয়সি একরামুল হককে অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এই জনপ্রতিনিধি। একরামুল হক টেকনাফের আবদুস ছাত্তার ও হাফেজা বেগম দম্পতির সন্তান ছিলেন।
ঘটনার পরপরই পরিবার থেকে ফাঁস করা অডিও টেপে একরামুলকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যার মর্মান্তিক বিবরণ উঠে এলে দেশ-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দফতর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং এর তৎকালীন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও র্যাব-৭ এর তৎকালীন অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ সংস্থাটির সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দীর্ঘ আট বছর পর ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবশেষে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের আইনি জবাবদিহি শুরু হলো।


