নড়াইলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষক মানসুর মোল্যাকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক ইউপি সদস্যসহ আরও দুইজন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মানসুর কদমতলা গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে হাসিব মোল্যা (২০) পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নড়াইলের পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) কাসেদ মোল্যার সঙ্গে তার বংশীয় হাসিব মোল্যার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত হাসিব ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যাকে কিল-ঘুসি মারেন।

এরপর শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসিব কদমতলা ত্রি-মোহনার মোড়ের দোকানে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী মেম্বার কাসেদের চাচাতো ভাই মানসুর ও নূর ইসলাম অভিযুক্ত হাসিবের কাছে জানতে চান-কেন কাসেদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। এ সময় হঠাৎ করেই ধারালো অস্ত্র বের করে হাসিব ভুক্তভোগী মানসুর ও নূর ইসলামকে কোপাতে শুরু করে। এরমধ্যে গুরুতর আহত মানসুরকে খুলনায় নেওয়ার পথে জামরিলডাঙ্গা ফুটবল মাঠের কাছে গেলে মারা যান তিনি। আহত নূর ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যা বলেন, হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে মাদকসেবন করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে। এরপর ধারালো ছুরিকাঘাতে মানসুর ও নূর ইসলামকে কুপিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। নিহত মানসুরের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। পূর্ববিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি।