মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ ভূরাজনীতিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। আন্তর্জাতিক জলসীমায় পারাপারের সময় ২৭ জন ভারতীয় নাবিকবাহী একটি বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। লিম্পেট মাইন বা জলজ মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রগুলো। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং জাহাজে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পানামার পতাকাবাহী জাহাজ এমটি লুইস-১ লক্ষ্য করে ছোট একটি নৌযান থেকে জাহাজের গায়ে দুটি লিমপেট মাইন লাগানো হয়। বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায় এবং সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে সেটি। তবে নাবিকেরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে জাহাজটি আবার যাত্রা শুরু করে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে লিমপেট মাইন ব্যবহারের প্রথম সফল ঘটনা এটি।

ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন লাগলেও নাবিকরা তা নিভিয়ে ফেলেন। এতে সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে। জাহাজটি সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়লেও পরে আবার চলাচল শুরু করে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১৭ সালে এ অঞ্চলে প্রথম লিমপেট মাইন ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী বছরগুলোতেও হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের মাইন ব্যবহার করা হয়েছে।

গ্রিসভিত্তিক সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মেরিস্কস জানিয়েছে, লিমপেট মাইন সস্তা এবং সহজলভ্য। প্রতিষ্ঠানটি রয়টার্সকে বলেছে, চলাচলরত জাহাজের গায়ে ছোট নৌযান থেকে এসব মাইন লাগানোর পদ্ধতি কম খরচের, প্রযুক্তিগতভাবে সহজ এবং বেশ কার্যকর।

এ ঘটনার এক দিন আগেও হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয় আরেকটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) এমটি আরজানাহ লক্ষ্য করে প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় বস্তু ছোড়া হয়। জাহাজটিতে ভারতের দুই নাগরিক ছিলেন।

ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, ওই জাহাজের নাবিকরা নিরাপদে আছেন ও কেউ আহত হননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ জন্য জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে। ইরান এই জলপথে চলাচলের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে তেহরান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি