ঢাকা
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
বাংলাদেশের ঋণমান নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীলে উন্নীত করেছে মুডি’স জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৬০.৬ কোটি ঘনফুট আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ: তদন্ত রিপোর্ট নুসরাত হত্যা: খালাস পেয়ে কারামুক্ত ৮ আসামি হামের উপসর্গে একদিনে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক লিবিয়া থেকে ফিরলেন আটক ১৬৮ বাংলাদেশি ইসি নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: তালাবদ্ধ সিঁড়ি বাড়িয়েছে বিপর্যয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটের তারিখ ও সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার সাইবার অপরাধ : চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
Advertise with us

২০৩০ সালের মধ্যে নতুন এলএনজি সক্ষমতার বড় পরিকল্পনা সরকারের

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৪ বার পঠিত
২০৩০ সালের মধ্যে নতুন এলএনজি সক্ষমতার বড় পরিকল্পনা সরকারের

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাপানের টোকিওতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।  ছবি: -সংগৃহীত

দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের আকাশচুম্বী চাহিদা মেটাতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তিকে শক্ত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা যুক্ত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে ৬০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতার একটি নতুন ভাসমান টার্মিনাল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার একটি আধুনিক স্থলভিত্তিক টার্মিনাল চালু করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাপানের টোকিওতে আয়োজিত ১৫তম ‘এলএনজি প্রডিউসার-কনজিউমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি কৌশল ও রূপান্তর প্রক্রিয়া তুলে ধরার সময় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা কেবল প্রাপ্যতা বা জোগানের বিষয় নয়। এর সঙ্গে সরবরাহের উৎসে বহুমুখিতা আনা, সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ, নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের যেকোনো হঠাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি পুনঃগ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিপরীতে দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বছরে প্রায় ৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমটিপিএ) এলএনজির বিশালাকার চাহিদা রয়েছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, গতিশীল নগরায়ণ এবং শিল্প কারখানার নতুন সংযোগের ফলে গ্যাসের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তবে অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্রগুলোর প্রাকৃতিক উৎপাদন কমার কারণে ঘাটতি মেটাতে আমদানিকৃত এলএনজি এখন দেশের জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে আরও একটি নতুন ভাসমান এফএসআরইউ স্থাপন করা হবে, যা থেকে দৈনিক ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। পরবর্তী ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে একটি ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার স্থায়ী স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, কৌশলগত এই দুটি বড় প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে দেশের এলএনজি গ্রহণ ও সরবরাহ অবকাঠামো বহুলাংশে শক্তিশালী হবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল মেয়াদে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ এমটিপিএ এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পরবর্তী ২০৩১ থেকে ২০৪০ মেয়াদে এই মোট আমদানির সক্ষমতা ১৭ থেকে ১৮ এমটিপিএ-তে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারের আকস্মিক দরপতন বা সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো একক পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে সরকার টু সরকার (জিটুজি), আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে বিশ্ববাজারের যেকোনো অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাত বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পায়।

বিপুল এলএনজি আমদানির পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের নতুন খনি ও সম্পদ অনুসন্ধানেও সরকার অত্যন্ত জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি গভীর ও অগভীর সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করতে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রস্তাব জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। এতে বিনিয়োগবান্ধব কর সুবিধা, দ্রুত মুনাফা ছাড় করার আইনি নিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় নতুন গ্যাস আমানতের সন্ধান মিললে ভবিষ্যতে বৈদেশিক আমদানির ওপর নির্ভরতা দৃশ্যমানভাবে কমে আসবে। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে একটি নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa