https://asia24.tv


প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি: -সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে সরকার বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) এককভাবে এ জাতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখে না; সরকারের সঙ্গে প্রশাসনিক আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমেই কেবল ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব মন্তব্য করেন।
জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “এই ধরনের বিশাল কর্মযজ্ঞের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও প্রশাসনিক সমন্বয় করেই পথ চলতে হবে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকারই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ঠিক কবে নাগাদ ভোট সম্পন্ন করা সম্ভব।”
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন থেকে একটি সম্ভাব্য প্রাথমিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেই খসড়া অনুসরণ করে পরবর্তীতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার ভোট অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সারাদেশে সাতটি পৃথক ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ঘোষণা করে। তবে এর পরপরই স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে সরকার পূর্বে কিছু জানত না।
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু সরকারের নীতিগত অবস্থান থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়, সেটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করাই যুক্তিযুক্ত। তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে কোলাবোরেট করে এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হবে। কমিশন ঘোষিত তারিখ অপরিবর্তনীয় কি না কিংবা ভোট পেছাবে বা এগোবে কি না—তা ভবিষ্যতের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়। তবে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরকার ও ইসির মধ্যে কোনো সংঘাত বা দূরত্ব তৈরি হয়েছে—এমনটা মনে না করার আহ্বান জানান তিনি।
এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রাজনৈতিক ধরন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, আসন্ন এই নির্বাচনে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যানারে অংশ নেবে না। বিগত সরকারের আমলে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হলেও এবার এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে যাচ্ছে। ফলে প্রার্থীরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়ে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেবেন। এই উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুবাদে নির্বাচনটি ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণমূলক হবে এবং অতীতে দেখা স্বাভাবিক নির্বাচনী আবহ ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফাসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


