https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় জরুরি নির্গমন পথ বন্ধ থাকায় চরম আতঙ্ক ও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়। ভবনটির পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিতেই ছিল শক্ত তালা ঝুলানো। ফলে বাধ্য হয়ে শতাধিক আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনেরা মাত্র একটি সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নামার চেষ্টা করতে গিয়ে পদদলিত হন এবং মারাত্মকভাবে আহত হন। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সরাসরি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নতুন ভবনটিতে মোট সাতটি লিফট ও পাঁচটি সিঁড়ি রয়েছে। তবে রোগীদের চলাচলের জন্য নিয়মিত খোলা রাখা হতো মাত্র একটি সিঁড়ি। বাকি চারটি সিঁড়ির বিভিন্ন তলার প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলানো ও মরিচা ধরা লোহার গ্রিল আঁটা ছিল। আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। বাধ্য হয়ে অনেকে লোহার গেট ও তালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সিঁড়িতে ছড়ানো বাতিল বেড ও নানা সামগ্রীতে হোঁচট খেয়ে বহু মানুষ জখম হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সোমবার রাতেই (১৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের জানান, প্রচণ্ড ধোঁয়ায় পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে গেলে তারা নামতে না পেরে এক কোণে আটকা পড়েন। সেখানে অন্তত দেড় শতাধিক শিশু ও তাদের স্বজনেরা তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগেন। ভুক্তভোগী ও চিকিৎসাসেবার সাথে জড়িতদের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে সিঁড়িগুলো উন্মুক্ত থাকলে এত বড় মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
নির্গমন পথ বন্ধ রাখার বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, মূল নিরাপত্তার স্বার্থেই সিঁড়িগুলো বন্ধ রাখা হতো, তবে এই দুর্ঘটনার পর তা সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, তালাবদ্ধ সিঁড়ির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে। সিঁড়ি উন্মুক্ত থাকলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা অনেক কমানো যেত।
তদন্তে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন ১১ নম্বর বন্ধ থাকা লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এক সপ্তাহ ধরে লিফটটি অকার্যকর থাকলেও সেটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল ছিল। সেখান থেকেই বৈদ্যুতিক শটসার্কিট হয়ে পুরো ভবনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।


