https://asia24.tv


শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ। এ সময় তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: -সংগৃহীত
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত গোলা বিস্ফোরণে শহীদ হওয়া দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় যেকোনো প্রয়োজনে সরকার ও সেনাবাহিনী পরিবার দুটির পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ আবেগঘন সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শহীদ সেনাসদস্যদের স্বজনদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং পরে নিজ হাতে আর্থিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক চেক তুলে দেন।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।
জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের দুজন সাহসী সেনাসদস্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগ জাতি সর্বদা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করবে।” শোকসন্তপ্ত স্বজনদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও যোগ করেন, সরকার শুধু সাময়িক সহায়তা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করবে না; বরং ভবিষ্যতেও শহীদদের স্বজনদের সার্বিক দেখভাল এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ও অভিভাবকত্ব অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় যে, শহীদ দুই সেনাসদস্যের নিজ স্থায়ী ঠিকানায় তাঁদের পরিবারের সুবিধার্থে একটি করে সুসজ্জিত বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া শহীদদের স্ত্রীদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাঁদের শিশু সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিশেষ মানদণ্ডে মাসিক ভাতা প্রদানের স্থায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ট্যাংক ফায়ারিং চালানোর সময় অকস্মাৎ গোলা বিস্ফোরণের দুর্ঘটনায় সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক এবং সৈনিক (গানার) মো. তাসনিম রিফায়াত প্রাণ হারান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দিন আবু বকর সিদ্দিকের পক্ষে তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জুতি, শিশুকন্যা, পিতা ও মাতা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে শহীদ তাসনিম রিফায়াতের পক্ষে তাঁর স্ত্রী মোসা. ফাহমিদা আফরিন, শিশুকন্যা ও পিতা সাক্ষাৎপ্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।


