https://asia24.tv


ওবায়দুল কাদের ও সাদ্দাম হোসেন। ছবি: -ফাইল ছবি
জুলাই গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি চাঞ্চল্যকর অডিও কল রেকর্ড প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। ২০২৪ সালের ১১ জুলাইয়ের ওই ফোনালাপে তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সরাসরি ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে নির্দেশ দিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা কিছু করো না কেন? মারো না কেন ওদের? চড়াও হতে দাও কেন ওদের?’
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই গুরুত্বপূর্ণ অডিওটি তুলে ধরা হয়।
রেকর্ডটিতে দেখা যায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন ও কর্মসূচির খবর তৎকালীন মন্ত্রীকে জানাচ্ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার সুযোগ চাইলেও আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি হতে পুলিশ ও দলীয় উচ্চপর্যায় থেকে নিষেধ করার কথা জানান সাদ্দাম। জবাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তোমরা বললা আজকে থেকে হালকা হয়ে যাবে সব। কই হালকা হইল? জমায়েত মানে এখানে জামায়াত আর বিএনপি যোগ হইছে।’
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, সিআইডি কর্তৃক ফরেনসিক পরীক্ষার পরই কল রেকর্ডটি ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। আইনের দৃষ্টিতে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে থেকে অধীনস্থদের ‘মারো না কেন’ বা ‘পিটাও না কেন’ বলা স্পষ্টত উসকানি ও প্ররোচনার অপরাধ। তিনি বলেন, ‘সামনে প্রতিরোধের কথা বললেও গোপনে তাঁরা আসলে সশস্ত্র আক্রমণের নির্দেশই দিয়েছিলেন।’
প্রসিকিউশন আরও জানায়, ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের পর ওবায়দুল কাদেরের এই চরম উসকানিতেই ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢামেক এলাকায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর নৃশংস হামলা চালায় ছাত্রলীগ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও তাঁর নাম উসকানিদাতা হিসেবে এসেছে। মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড একক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি ছিল আওয়ামী লীগের একটি সুপরিকল্পিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত।
এছাড়া তদন্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামালসহ আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানানো হয়। মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাদ্দাম হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও ওয়ালি আসিফ ইনান—এই সাত পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। আগামী রবিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।


