চট্টগ্রামের পাহাড় কেটে ও খালের গতিপথ পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটছে।  লোহাগাড়ায় একই অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি শ্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে লোহাগাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হাকিম লিটন বাদী হয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলাটি করেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল পদুয়া গ্রামের উলুবনিয়া এলাকায় চাপোড়া খাল ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ ও বন বিভাগ। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

মামলায় আসামিরা হলেন— সরওয়ার কামাল (৪২), হুবায়ের (৩৬), মো. জিয়াবুল (৪২), ভুট্টো (৩৭), মো. রাকিব (২৫) ও মো. শফিক (৩০)। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সরওয়ার কামালের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাপোড়া খাল ও পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশও এ বিষয়ে তথ্য পায়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে দুটি পুরোনো শ্যালো মেশিন, একটি লোহার পাম্প এবং দুটি সবুজ রঙের হার্ড প্লাস্টিকের সাকশন পাইপের কাটা অংশ জব্দ করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পাহাড়ের নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর আগে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেও কিছুদিন পর আবারও একই কাজ শুরু করতেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বালু উত্তোলন করে আসছেন সরওয়ার কামাল ও তার সহযোগীরা। প্রশাসনের অভিযান ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় খাল ও পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহও হুমকির মুখে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জের হাঙর বন বিটে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় সৃজিত বাগানের ভেতর দিয়ে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেন। সেই রাস্তা দিয়ে উত্তোলিত বালু পরিবহন করা হতো। বন বিভাগ কয়েক দফায় কাঁটাতারের বেড়া, গাছের বেষ্টনী ও এক্সকেভেটর দিয়ে গর্ত তৈরি করে রাস্তা বন্ধ করে দিলেও পরে আবারও তা চালু করা হয়।

পদুয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, আসামিরা বন বিভাগের আওতাধীন পাহাড় ও সুফল বাগানের ক্ষতি করে অবৈধভাবে বালু পরিবহন করছিলেন। বনভূমি রক্ষায় বিভিন্ন সময় বাধা দেওয়া হলেও তারা আবারও রাস্তা চালু করে বালু পরিবহন করেন। বনভূমি ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বন বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়েছে। এ সময় বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।