যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা ও হয়রানির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সরকারের ১২ জন সাবেক উপদেষ্টা।
বিবৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন ও ড. আসিফ নজরুল।
সাবেক উপদেষ্টাদের বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, ‘সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে চলমান হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণের ঘটনায় আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করছি এবং সম্ভাব্য কঠোরতম ভাষায় এর নিন্দা জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ ‘যখন সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল’, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে পুনর্গঠনের কাজে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহল অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে নিরলসভাবে বিদ্বেষপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং তাকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে নেওয়া এ ধরনের কাপুরুষোচিত কৌশলের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’
‘বাংলাদেশের জনগণ এবং তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত সংস্কার ও মর্যাদার ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসন ও তার সমর্থকদের বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে মুছে ফেলা যাবে না, এবং তা হতে দেওয়া হবে না’ বলেও ইংরেজিতে দেওয়া বিবৃতিটিতে বলা হয়েছে।
বিবৃতির নিচে যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন– সাবেক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সিআর আবরার, আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমিন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে হেনস্তার শিকার হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় তাকে ঘিরে আক্রমণাত্মক স্লোগান ও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন নেতাকর্মীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’সহ নানা অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করেন।
জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার জাগো নিউজকে জানান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল ও যুবলীগ নেতা সাগরসহ অন্যরা।
তানভীর কায়সার বলেন, ড. ইউনূসের নিউইয়র্কে আসার খবর আগে থেকেই আমাদের জানা ছিল। তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করতে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই আমরা বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম।





মন্তব্য করুন